২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

December 4, 2019, 10:02 pm

পঞ্চগড়ে সম্ভাবনাময় চা শিল্পে অনিশ্চয়তা কাটছেনা

চাষীদের অভিযোগ চা কারখানার মালিকদের সিন্ডিকেটের দাপটে দাম নেই
মালিকদের অভিযোগ নিয়ম মানছেনা চা চাষীরা
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সব জিনিসের দাম। বেড়েছে কীটনাশক, সারের দাম। ফলে বেড়ে গেছে চা পাতার উৎপাদন খরচও। কিন্তু চা কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটে উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না পঞ্চগড়ের চা চাষিরা। মূল্য নির্ধারণ কমিটির সীদ্ধান্ত না মেনে কারখানা মালিকরা মনগড়া মূল্যে চায়ের কাঁচাপাতা কিনছেন। সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে লোকসান সত্ত্বেও ক্ষুদ্র চা চাষিরা কারখানায় চা পাতা বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে হতাশ চা চাষি ও বাগান মালিকরা। এতে দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল পঞ্চগড়ে ক্ষুদ্র চা চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পটি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে চা কারখানা মালিকদের দাবি, নিয়ম মেনে কাঁচাপাতা উত্তোলন না করার জন্য এখানে চায়ের মান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য চট্টগ্রামের অকশন মার্কেটে পঞ্চগড়ের তৈরিকৃত (মেড টি) চায়ের মূল্য কমে যাচ্ছে। অকশন মার্কেটে গত বছরের তুলনায় এবার চায়ের দাম অর্ধেকে নেমেছে। তাই চা চাষি আর বাগান মালিকরাও কাঁচাপাতার দাম কম পাচ্ছেন।
অন্যদিকে চা পাতার ন্যায্য মূল্যের দাবিতে এবং কারখানা মালিকদের সিন্ডকেটের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বৃহষ্পতিবার সকালে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের মুক্তমঞ্চে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিলসহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম এবং সিলেটের পরে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল পঞ্চগড়ে উত্তরাঞ্চল ক্ষুদ্র চা চাষ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৭৯২ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণ হয়েছে। প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে চা চাষের পরিধি। বর্তমানে স্টেট পর্যায়ে ৯টি, ক্ষুদ্রায়তন ১৫টি এবং সাড়ে ৪শ এরও বেশি ক্ষুদ্র চা চাষি পঞ্চগড় চা বোডের্র তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে নিবন্ধনের বাইরে এখানে আরও কয়েক হাজার ছোট-বড় চা বাগান গড়ে উঠেছে। লাভের আশায় অনেক চাষি অন্য ফসল বাদ দিয়ে নিজের ১৫ থেকে ২০ শতক পর্যন্ত জমিতেও চা বাগান করেছেন।
স্থানীয় চা চাষিদের হিসেবে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক চা চাষ শুরু করেছেন। জেলার ১৫টি চা কারখানায় এসব ক্ষুদ্র চা চাষি তাদের নিজেদের জমিতে উৎপাদিত চায়ের কাঁচাপাতা বিক্রি করছেন। চলতি মৌসূমের শুরু থেকে কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে কাঁচাপাতার উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে হত্যাশ ক্ষুদ্র চা চাষি আর বাগান মালিকরা।সরেজমিন বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে কয়েক বছরে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা চায়ের সবুজ পাতায় ভরে গেছে। এদের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র পর্যায়ের চা চাষি। গত বছর এ সময়ে এসব চা চাষি কাঁচাপাতা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। শুধু সিন্ডিকেটের কারণে একই সময়ে বর্তমানে চাপাতা তারা ১১ থেকে ১২ টাকায় টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মধ্যে আবার নানা অজুহাতে ওজনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পাতা কর্তন করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দিচ্ছেন কারখানা মালিকরা। কর্তন হিসেব করলে চা চাষিরা প্রতি কেজি চায়ের মূল্য পান ৯ থেকে ১০ টাকা। এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে চা চাষিদের মধ্যে।তবে সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে কারখানা মালিকরা জানায়, ভালো মানের চায়ের পূর্বশর্ত হলো দুটি পাতা একটি কুড়ি হিসেবে বাগান থেকে চা তুলতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে জেলা চা পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক ৪ পাতা পর্যন্ত অনুমোদন করে। কিন্তু চা চাষিরা আট থেকে ১০ পাতা পর্যন্ত চা তুলে কারখানায় নিয়ে আসেন। তাই বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ওজনের তুলনায় কিছু কর্তন করতে হয়। এছাড়া মান নিয়ন্ত্রণ না করায় চট্টগ্রামের অকশন মার্কেটে পঞ্চগড়ের চা তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর অকশন মার্কেটে পঞ্চগড়ের তৈরিকৃত চা কেজি প্রতি ২৪৩ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এবার দরপতন হয়ে সেই চা ১৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাড়ে চার থেকে পাঁচ কেজি কাঁচাপাতা থেকে এক কেজি তৈরিকৃত (মেড টি) চা হয়। কারখানায় এ চায়ের উৎপাদন খরচ ৫৩ টাকার মতো। সেই হিসাবে আমরাও লোকসানের ঝুঁকিতে রয়েছি। এখানে সিন্ডিকেটের কিছু নেই। চা চাষিরা মান ঠিক রেখে চা পাতা তুললে তৈরিকৃত চায়ের মান বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে অকশন মার্কেটে মূল্য বৃদ্ধি হলে আমরাও চায়ের কাঁচাপাতার মূল্য বাড়াতে পারবো।

এ নিয়ে কোনো কারখানা মালিক সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিতে নারাজ। তবে তেঁতুলিয়ার গ্রিন কেয়ার এগ্রো লিমিটেট নামে একটি চা কারখানার ম্যানেজার মঞ্জুরুল বলেন, চট্টগ্রামের অকশন মার্কেটে সিলেটের তৈরিকৃত চায়ের তুলনায় আমাদের চায়ের দাম কম। কারণ তারা যে নিয়ম মেনে বাগান থেকে চা উত্তোলন করে, আমরা সেই নিয়মের ধারের কাছেও নেই। আমাদের এখানকার ক্ষুদ্র চা চাষিরা হাতের বদলে কাঁচি দিয়ে আট থেকে ১০ পাতা পর্যন্ত ডালসহ কেটে কারখানায় নিয়ে আসেন। অথচ নির্ধারণ করা আছে চার থেকে সাড়ে চার পাতা পর্যন্ত। এজন্য আমরাও চায়ের মান ঠিক রাখতে পারছি না। সেই কারণে আমাদের চায়ের চাহিদা কমে গেছে। অকশন মার্কেটে আমাদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি কমে গেছে। আমরা কারখানায় তৈরি করে বাজারে চা বিক্রি করতে পারছি না। এটার একমাত্র কারণ মান নিয়ন্ত্রণ না করা। চা চাষিরা ভালো মানের পাতা সরবরাহ করলে আমরা মূল্য নির্ধারণ কমিটির দর অনুযায়ী কাঁচাপাতা কিনব। সেক্ষেত্রে আমরাও ভালো মানের চা উৎপাদন করতে পারবো এবং অকশন মার্কেটে আমাদের চায়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে চা চাসী ও কারখানার মালিক মোঃ জাহেদুল হক বলেন, চায়ের কাচাঁপাতা থেকে উৎপাদিত চা ব্যয় বেড়ে গেছে। তাছাড়া অকশনে দাম পড়ে গেছে। হিসেবে আমরাও সমস্যায় আছি। সিন্ডিকেটের কোন বিষয় নাই।
কিন্তু ক্ষুদ্র চা চাষিরা কারখানা মালিকদের এ অজুহাত মানতে নারাজ। তাদের দাবি, কারখানা মালিকরা নিয়ম না মেনে উত্তোলনকৃত চায়ের কাঁচাপাতা কেনা বন্ধ করে দিলে চা চাষিরা নিয়ম মেনে বাগান থেকে চা পাতা উত্তোলনে বাধ্য হবে। আমরাও কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য পাব এবং কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবে না। কিন্তু কারখানা মালিকরা তাদের স্বার্থে এমন নিয়ম চালু করছেন না। তারা নানা অজুহাতে ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাছে কম দামে চা কিনছেন। এতে তারা ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই জেলা প্রশাসনের মূল্য নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক প্রতি কেজি চায়ের কাঁচাপাতা ১৬.৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সিন্ডিকেট করে কারখানা মালিকরা ১২ টাকার বেশি চা কিনছেন না। আর সিন্ডিকেটের সদস্যরা যাতে সমভাবে লাভবান হন, এজন্য তারা কৌশল করে মাঝে মধ্যে কারখানা ২/১ দিন বন্ধ রাখেন। এতে কম দামে সব কারখানাই চা পাতা কিনতে পারবে। এ প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের সদস্য প্রত্যেক কারখানা মালিক সমভাবে লাভবান হচ্ছেন।গত বছর পঞ্চগড়ে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ৭০৪ কেজি কাঁচা চা পাতা থেকে ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৮৮ কেজি তৈরিকৃত চা পাতা উৎপাদন করা হয়। প্রতি বছর চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসূমে এক কোটি কেজি তৈরিকৃত চা উৎপাদন হতে পরে বলে বলে জানায় স্থানীয় চা বোর্ড।

ক্ষুদ্র চা চাষিরা জানান, গত কয়েক বছরের হিসেবে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন বাগান থেকে চলতি মৌসূমে যদি চার কোটি কেজি কাঁচা চা পাতা উৎপাদন হয়। আর কমিটির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কারখানা মালিকরা যদি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেজি প্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা করে কম কিনতে পারেন। তাহলে সিন্ডিকেটের পকেটে শুধু এ হিসাব থেকেই ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ঢুকবে। রয়েছে নানা অজুহাতে কর্তনকৃত চায়ের হিসাব। এছাড়া সবকিছু ঠিকঠাক হিসাব করলে মূল্য নির্ধারণ কমিটি চায়ের কাঁচাপাতার মূল্য আরও বৃদ্ধি করতে পারেন। কিন্তু কাঁচাপাতার মূল্য না বাড়িয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চা কারখানা মালিকরা ক্ষুদ্র চা চাষিদের বঞ্চিত করে কোটি কোটি টাকার মুনাফা করছেন। সিন্ডিকেটের এ মুনাফার অংশ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করারও অভিযোগ রয়েছে।এজন্য কারখানা মালিকরা তাদের ইচ্ছেমতো দর ঠিক করে চা পাতা কিনছেন। আর অন্য কোনো উপায় না থাকায় ক্ষুদ্র চা চাষিরা তাদের ঠিক করা দরেই চা পাতা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সঙ্গত কারণে কাঁচাপাতার মূল্য নিয়ে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের পদক্ষেপ নেই। তবে এসব কারণে পঞ্চগড়ে সম্ভাবনাময় চা শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্ষুদ্র পর্যায়ে চা চাষিদের মধ্যেও দানা বাধছে ক্ষোভ। চা পাতার মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে আবারও তারা আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করছেন।
উপজেলার সদরের ডুডুমারি এলাকার ক্ষুদ্র চা চাষি বসিরুল আলম প্রধান বলেন, চায়ের মান নিয়ন্ত্রণের পুরোটাই নিভর্র করে চা কারখানা মালিকদর ওপর। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিম্নমানের চা পাতা কেনা বন্ধ করলে চা চাষিরা বাধ্য হয়ে বাগান থেকে নিয়ম অনুযায়ী চা উত্তোলন করবেন এবং মান ঠিক রেখেই কারখানায় দেবেন। কিন্তু কারখানা মালিকরা নিজেদের স্বার্থেই এমন নিয়ম চালু করছেন না। এছাড়া অকশন মার্কেটে পঞ্চগড়ের চায়ের দরপতনেও কারখানা মালিকদের কারসাজি রয়েছে। তারা চায়ের উৎপাদন মৌসূমের বাইরে (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) কম দামে নিম্নমানের কাঁচাপাতা সংগ্রহ করে নিম্নমানের চা তৈরি করেন। উৎপাদন মৌসূমে উৎপাদিত চায়ের সঙ্গে সেই নিম্নমানের চা মিলিয়ে অকশন মার্কেটে বিক্রি করেন। মূলত মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নয় মাস চা উৎপাদনের মৌসূম ধরা হয়। এর বাইরে বাগান থেকে চায়ের কাঁচাপাতা তোলা হলে সেটা চা উৎপাদনের উপযোগী থাকে না। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি তিন মাস (রেস্ট টাইম) চা কারখানাগুলো বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু আমাদের চা কারখানা সারা বছর চালু থাকে। মৌসূমের বাইরে নিম্নমানের কাঁচাপাতা কিনে তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে নিম্নমানের চা তৈরি করেন। নিজেদের স্বার্থেই তারা চায়ের মান উন্নয়নে উৎসাহী নয়। আর এ নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে আমাদের চা পাতার উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ২০০০ সালে পঞ্চগড়ে চা চাষ শুরু হয়। শুরুতে বাগান করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এখানে সাধারণ কৃষকরাও ক্ষুদ্র পর্যায়ে চা চাষ শুরু করেন। আমরা ভেবেছিলাম, কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ক্ষুদ্র চা চাষিরা চা পাতার উপযুক্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক দাম পাবেন। কিন্তু এখন ঘটছে উল্টোটা। বর্তমানে অকশন মার্কেটের দাম হিসাব করলেও এখানে চা পাতার দাম বৃদ্ধি করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা বাধ্য হয়ে ১১ থেকে ১২ টাকায় পাতা বিক্রি করছি। কারখানা মালিকরা পাতা না কিনলে আমাদের বাগান থেকে চা তুলে ফেলে দিতে হবে। তা নাহলে বাগান নষ্ট হয়ে যাবে। পাঁচ হাজারের মতো ক্ষুদ্র কৃষক পথে নামবে। মূলত এখানে চা শিল্পকে ধ্বংসের একটা চক্রান্ত রু হয়েছে। এ নিয়ে এখনি চা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছেন না।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোডের্র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন বলেন, জেলা প্রশাসন কর্তৃক মূল্য নির্ধারণ কমিটির মাধ্যমে পঞ্চগড়ে চায়ের কাঁচাপাতার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬ টাকা ৮০ পয়সা। একই সঙ্গে বাগান থেকে সাড়ে চার পাতা পর্যন্ত উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু চাষিরা আগে থেকেই আট থেকে ১০ পাতা পর্যন্ত চা দিয়ে অভ্যস্ত। এজন্য অকশন মার্কেটের তৈরিকৃত চায়ের দরপতন ঘটেছে। যেসব চাষি মান ঠিক রেখে কারখানায় চা পাতা দিচ্ছেন, তারা মূল্য নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক ১৬.৮০ কেজি দরেই বিক্রি করছেন। এর বাইরে কারও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
চা পাতার মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, চায়ের মূল্য মূলত অকশন মার্কেটের মূল্যের উপর নির্ভর করে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাগান মালিক, ক্ষুদ্র চা চাষি এবং কারখানা মালিকদের নিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়। সেখানে মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি বাগান থেকে সাড়ে চার পাতা পর্যন্ত উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু চা চাষিরা এখনও আট থেকে ১০ পাতা পর্যন্ত চা কারখানায় নিয়ে আসেন। কারখানা মালিকরাই অভিযোগ করেন, তাদের চা পাতা না কিনলে তারাই আন্দোলন শুরু করে। মূল চায়ের মান নিয়ন্ত্রণ না করার কারণে চাষিরা ভালো দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, যারা মান ঠিক রেখে বাগান থেকে চা পাতা তুলছেন, তারা কেজি প্রতি নির্ধারিত ১৬.৮ টাকা পাচ্ছেন। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মানছেন না, এমন অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর