১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

June 2, 2020, 9:02 pm

পীরগঞ্জে বালু সন্ত্রাস; করতোয়ার বালু লুট!

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ পীরগঞ্জে উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করলেও সংঘবদ্ধ হয়ে করতোয়া নদী থেকে প্রতিদিন শত শত মাহেন্দ্র ও ট্রলিতে করে বালু লুট করা হচ্ছে। উপজেলার কতরোয়া নদী থেকে ওই বালু পরিবহন করায় ভাঙ্গছে জমি, রাস্তা-ঘাট। আসছে বর্ষা মওসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ। অপরদিকে ধুলোবালির কারণে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করতোয়া নদীটি রংপুর ও দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট উপজেলার ধার ঘেষে বহমান। নদীটি বর্তমানে শুকিয়ে যাওয়ার কারণে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কুয়াতপুর-হামিদপুর নামকস্থানে ল্যাংড়ারঘাট দিয়ে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াঘাট উপজেলার সাথে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। ঘাটটিতে বর্ষায় নৌকা জোড়া লাগিয়ে মানুষ পারাপার হয়। ল্যাংড়ারঘাটেই কুয়াতপুর হামিদপুর গ্রামের ১৬ জন বালু সন্ত্রাসী জোটবদ্ধ হয়ে একাধিক বোমা মেশিন দিয়ে প্রতিদিন শত শত মাহেন্দ্র ও ট্রলি বালু বিক্রি করছে। গ্রামটির শামীম মিয়ার (৩৬) নেতৃত্বে বালু সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। এলাকাবাসী নদীপাড়ে তাদের জমি এবং রাস্তাঘাটের ভাঙ্গন ঠেকাতে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে বারংবার প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বালু সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। ফলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বাহিনীর সদস্য বাবু, মিলন, রাজু, স্বপন, মহাবুর, মঞ্জুর, হারুন, রবিউল, সুজন, আবু তাহেরসহ অনেকেই গ্রামবাসীকে বেশ কয়েকদফা মারপিট করে। তারা কাউকেই তোয়াক্কা না করে বালু লুট করে আসছে। এ ব্যাপারে বাহিনীটির প্রধান শামীম মিয়া বলেন, নদীর পানির ¯্রােত ঠিক রাখতেই বালি তুলছি। এতে কিছু জমি আর রাস্তা ভাঙ্গছে। আমরা সেটা ঠিক করে দেব। তিনি আরও বলেন, প্রতি মাহেন্দ্র বালি ৫’শ টাকা এবং প্রতি ট্রলি ৩’শ টাকা করে বিক্রি করছি। এভাবে প্রতিদিন ৫০ /৬০টি মাহেন্দ্র বালু নিয়ে যাচ্ছে। সে আরও জানায়, আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বালু তুলছি। চতরা ইউনিয়নের ল্যাংড়ারঘাট সংশ্লিষ্ট ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ গোল্লা বলেন, আমি বালু তুলতে নিষেধ করলেও শামীম বাহিনী শুনছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানায়, প্রতিদিন শত শত মাহেন্দ্র, ট্রলি বালু পরিবহন করায় রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগি হয়েছে। ধুলোবালির কারণে বাড়ীর ভিতরেও থাকা যায় না। আসছে বর্ষা মওসুমে আমরা হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বো। ভুক্তভোগী ঘাসিপুর গ্রামের বাবু মিয়া (৬০) বলেন, অনেকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। উল্টো বালু সন্ত্রাসীরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিএমএ মমিন বলেন, স্থানীয়ভাবে এবং করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনে বন্ধে গত সপ্তাহে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও বালু তোলা হচ্ছে বলে একাধিক স্থান থেকে খবর আসছে। শিগগির ব্যবস্থা নেব।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর