১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

October 2, 2020, 5:16 am

করোনাকালে পঞ্চগড়ের ঘরবন্দি শিশুরা মেতেছে ‘ঘুড়ি উৎসবে’

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ‘ঘরবন্দি শিশুরা করোনাকালে ঘূড়ি উৎসবে সময় পার করছে। যাদের দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা, সেই শিশু-কিশোররাও কার্যত এই দুঃসময়ে ঘরবন্দি। এই বন্দিদশা থেকে পরিত্রাণ পেতে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের শিশু-কিশোরদের অনেকেই মেতে উঠেছে ঘুড়ি উৎসবে। রাতের আকাশে শত শত ‘আলোকিত’ ঘুড়ি উড়ছে জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার গ্রামগুলোতে। ঘুড়িগুলোর মধ্যে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা রঙের এলইডি বাতি। লকডাউনের মধ্যে এই ঘুড়ি ওড়ানোর দৃশ্য রাতের প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। অনেকে বলছেন, মনোমুগ্ধকর এই আয়োজন যেন করোনামুক্ত ভোরের বার্তা।
গত শনিবার দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী, মৌমারি, খোঁচাবাড়ী, একতার মোড়, পাইকানপাড়া, ঢাঙ্গীরহাট, খেলারাম, সরকারপাড়া এলাকার আকাশে উড়ছে শত শত ঘুড়ি। হঠাৎ দেখলে মনে হবে, আকাশের তারাগুলো বুঝি নিচে নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানায়, শত শত ঘুড়ি আগে কখনো ওড়াতে দেখেনি তারা, তাও রাতের বেলা। আগে ঘুড়ি ওড়ানো হতো দিনে। রাতের বেলা হারিকেন বেঁধে ঘুড়ি উড়িয়ে দেওয়াও দেখেছে তারা, তবে তা সংখ্যায় ছিল একটা-দুটো। রাতের আকামে শত শত ঘুড়ি ওড়ানোর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এই প্রথম দেখছে তারা।
বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয় বন্ধ। করোনায় লকডাউনের মধ্যে ঘরে বসে একঘেয়ে লাগছে তাদের। সময় কাটাতে তাই তারা ঘুড়ি উৎসবে মেতেছে।
শিশু-কিশোররা জানায়, বাঁশ কেটে তারা নিজেরাই ঘুড়ি তৈরি করছে। মোবাইলের ব্যাটারির সংযোগে বিশেষভাবে জিরো পাওয়ারের ছোট ছোট বিভিন্ন রঙের এলইডি বাতি এতে জুড়ে দিচ্ছে তারা। প্রতিটি ঘুড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। যে ঘুড়িতে যত বেশি বাতি থাকে সেটিকে তত বেশি উজ্জ্বল দেখায় এবং অনেক দূর থেকে দেখা যায়। এসব ঘুড়ির বেশির ভাগই ‘চিলঘুড়ি’। তবে ভিন্ন আকৃতিও দিচ্ছে কেউ কেউ।
দেবীগঞ্জের সরকারপাড়া এলাকার নুরনবী ইসলাম বলে, ‘স্কুল বন্ধ। সবাই ঘুড়ি ওড়াচ্ছে তাই আমিও দেখাদেখি ঘুড়ি বানিয়ে ওড়াচ্ছি। সবাই মিলে অনেক মজা করছি। মা-বাবাও উৎসাহ দিচ্ছেন।’
খোঁচাবাড়ীর কামরুল হাসান বলেন, ‘ঢাকায় কাজ করতাম। করোনার কারণে বাড়ি ফিরে এসেছি। বাড়িতে অলস সময় কাটছে। তাই ঘুড়ি ওড়ানোর উদ্যোগ নিই রাতের বেলায়। একজন, দুজন করে এখন আমাদের গ্রামসহ চারপাশে শত শত ঘুড়ি উড়ছে।’
একই এলাকার শাহীন আলম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর ঘুড়ি উড়িয়ে দিই আকাশে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়, কার ঘুড়ি কত সুন্দর দেখায়। সে জন্য যে যার মতো আলোকসজ্জা করে। যে ঘুড়িতে বেশি এলইডি বাতি থাকে সেটিকে আকাশে তত বেশি উজ্জ্বল দেখায়।’
স্থানীয় শিক্ষক শামছুল হক বলেন, ‘আগে দেখতাম শিশু-কিশোররা দিনের বেলায় ঘুড়ি ওড়াত। এই করোনা পরিস্থিতিতে রাতে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি। যে কাউকে এই দৃশ্য মুগ্ধ করবে।’ তিনি বলেন, ‘ভার্চুয়াল জগৎ ছেড়ে তারা যে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ঘুড়ি উৎসবে মেতেছে, এটা সত্যিই আনন্দের। আমরা চাই, আমাদের শিশু-কিশোররা এমন সুস্থ বিনোদনের মধ্য দিয়ে বড় হোক।’
দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান বলেন, ‘করোনাক্রান্ত জনপদে রাতের বেলায় ঘুড়ি ওড়ানোর দৃশ্য সত্যিই স্বস্তি দেয়। এ দৃশ্য কেউ না দেখলে বুঝতে পারবে না তা কতটা মনোমুগ্ধকর।’ এর মধ্যে যেন করোনামুক্ত ভোরের বার্তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর