,

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা

স্টাফ রিপোর্টার: যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসন। ৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালেও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন হাবিবুর রহমান মোল্লা। আওয়ামী লীগের এই নেতা বার্ধক্যে উপনীত হওয়ায় এ আসনে দলের একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ তালিকায় আছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান এমপির ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল। দলীয় সিগন্যাল পেয়ে নির্বাচনে লড়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর আসুদ। মাতুয়াইলের (স্থায়ী বাসিন্দা) সন্তান হিসেবে এবার তিনিই মনোনয়ন পাবেন। এই আশায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দল থেকেও ইতিমধ্যে জাপার প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসিও চান মহাজোট থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হোক। তাকে মনোনয়ন দিলে বিজয় নিশ্চিত হবে বলেও জানান তারা।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে চান বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। তাঁদের মধ্যে আছেন-সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা নবিউল্লাহ নবী, কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও পেশাজীবী নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি ও ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন রতন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা বার্ধক্যজনিত কারণে এখন আর আগের মতো সক্রিয় নেই। তাঁর ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল বাবার রাজনীতির উত্তরাধিকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সজল বর্তমানে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা হাবিবুর রহমান মোল্লাকে অবসরে পাঠাতে চাইলে ছেলে সজল দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে তাকে প্রার্থী হিসেবে মানবে না যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না। হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, আমি কখনো আমার দায়িত্বে অবহেলা করিনি। এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছি। আমি এখনো নিজেকে শারীরিকভাবে সমর্থ মনে করি। আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা ও প্রস্তুতি দুটিই আছে। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তই বড় কথা।
ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের চাওয়া হলো আমার বাবা আবার নির্বাচন করুক। তবে যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) মনে করেন আমার বাবাকে অবসর দেবেন তবে আমি মনোনয়ন চাইব। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের এমনটাই চাওয়া।
বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনে লড়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে দলে আছেন তিনি। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকায় মহানগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সক্রিয় ছিলেন খালেদা জিয়ার পক্ষে। অভিযোগ আছে, ২০০৩ সালে দলের কিছু নেতার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সাময়িকভাবে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছিলেন তিনি। এর পরও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে গত তিন-চার বছর ধরে মাঠ গোছানোর কাজ করছেন শিক্ষিত ও তৃনমুল থেকে উঠে আসা মেধাবী সংগঠক ,সৎ রাজনীতিবিদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ। একাধারে তিনি সাংবাদিকও। কর্মিসভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন আসুদ। গত নির্বাচনেও তিনি জাপার প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের সাথে আসন সমঝোতার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এবার এলাকাবাসীর দোয়া চেয়ে যাত্রাবাড়ী, ডেমরার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়েছেন আসুদ। এলাকাবাসির সুখে-দুঃখে পাশে আছি। আগামীতেও তাদের পাশে থাকবো।
মীর আব্দুস সবুর আসুদ বলেন, আমরা বংশপরম্পরায় এলাকার নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। আমি গণসংযোগের মধ্য দিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছি। দলের পক্ষ থেকেও আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ চালাতে বলা হয়েছে। আমি দলের মনোনয়ন পাব। তিনি বলেন, আমি নিয়মিত গণসংযোগ করছি। এই আসন থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যই এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারেননি। সবাই নিজের আখের গোছানোয় মনোযোগ দিয়েছেন। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-দুর্নীতি বন্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে চাই। তিনি বলেন, মাতুয়াইল-দনিয়া, সারুলিয়া ও ডেমরায় মোট ভোটারের সংখ্যা সাড়ে চার লাখ। আর বাকী ৩টি ওয়ার্ডে (৪৮-৪৯ এবং ৫০) মোট ভোটার ১লক্ষ ২৫হাজার। এ কারণে ঢাকা-৫আসনে সব সময় মাতুয়াইলের স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রাধান্য দেয় সব দলই। ভোটের অংক হিসেব করলেও এবার জাপার প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর আসুদ মনোনয়ন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ৮৬ ও ৮৮সালে এই আসনটি (ঢাকা-৫) জাতীয় পাটি সিট ছিলো। তাই আবার এই আসনটি উদ্ধার করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর