,

বৈশাখী ভাতা থেকে বেসরকারী শিক্ষকরা কেন বঞ্চিত হবেন ? -অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু

১ বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। হাজার বছরের এই উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত ও রঙ্গিন করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা প্রবর্তন করেন। মূলত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মোদ্দিপনা প্রদানের লক্ষেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহন করেন। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০% হারে এই ভাতা পেয়ে থাকেন। বৈশাখী ভাতার জন্য সরকারের নিকট কেউ দাবী জানায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং ইচ্ছায় এই ভাতা প্রবর্তন করা হয়।
বাংলাদেশে সরকারী কোষাগার থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী এবং প্রায় ৫ লক্ষ বেসরকারী (সরকারী এমপিও ভূক্ত) শিক্ষক কর্মচারী। বাংলাদেশে মোট শিক্ষার ৯৭.৫০% বেসরকারী শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়ে থাকে। মাত্র ২.৫০% সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে থাকে। সরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের যে স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা একই স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সরকার সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য যখন ২০% মহার্ঘ্য ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তখনো বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আমলাদের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করেছিল। বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের বাদ দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর কাছে মহার্ঘ্য ভাতা প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেদিন যখন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয় তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের ২০% মহার্ঘ্য ভাতার অন্তভূর্ক্ত করা হয়।
বাঙালির সার্বজনীন উৎসব বৈশাখ। অথচ হাজার বছরের প্রাণের এ উৎসবকে উদযাপনের জন্য সরকার প্রদত্ত উৎসব ভাতা থেকে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা গত দু’বছর বঞ্চিত রয়ে গেছে। গত বছর ২৯ মার্চ স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন হাজার হাজার শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে বৈশাখী ভাতা ও ৫% ইনক্রিমেন্টের বিষয়ে তাঁর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ্য করে তা বাস্তবায়নে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন । এ ব্যাপারে তিনি যথাযত উদ্যোগও গ্রহন করেছিলেন যদিও সময়ের স্বল্পতার জন্য গতবার তা বাস্তবায়ন হয়নি। বৈশাখী উৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। এখনো এ ব্যাপারে সরকারী কোন ঘোষনা পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। সাংগঠনিকভাবেও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দফতরে আমরা বেসরকারী শিক্ষকদের ৫% ইনক্রিমেন্ট বৈশাখী ভাতা ও অন্যান্য ন্যায্য দাবী সমূহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎপরতা লক্ষ্যনীয়। আমি অত্যন্ত আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে যখন বিষয়টি গেছে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতাসহ তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবেন না। এখন প্রশ্ন হলো কখন এই ভাতা পাবেন ? বৈশাখ শেষ হয়ে গেলে যদি এই ভাতা প্রদান করা হয় তাহলে বৈশাখের আনন্দ থেকে তারা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল প্রদানের ক্ষেত্রেও বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের ৬ মাস পর নতুন স্কেল কার্যকর করা হয়। এজন্য তাদেরকে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। যদিও তারা ৬ মাসের এরিয়ারসহ বেতন পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যখন এই সুবিধা প্রদানই করা হলো তখন কেন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিক্ষক সম্পদ্রায়কে ৬ মাস পরে তা দেওয়া হলো ? এতে তো সরকারের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলো। বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের দাবী দাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহলের রাজনৈতিক ফায়দা লুটার অপতৎপরতায় সরকার ক্ষুব্ধ বলে পত্রিকায় খবরে প্রকাশ। এ কথাও সত্য যে শিক্ষক নামধারী কতিপয় ব্যক্তির অশিক্ষক সূলভ আচরণ, আন্দোলনের নামে অদূরদর্শী ও অশিক্ষক সূলভ কর্মসূচী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবীর আন্দোলন বার বার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শিক্ষক আন্দোলনের নামে কতিপয় শিক্ষক নেতার হঠকারী কর্মকান্ড শিক্ষকদের মান মর্যাদা নিয়েও অনেক প্রশ্নের অবতারনা হয়েছে। যা সার্বিকভাবে শিক্ষক আন্দোলনে ভাবমুর্তিকে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তথাপিও সরকারকে ভাবতে হবে কতিপয় শিক্ষক কর্মচারীর আচরণের জন্য পাঁচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে না। অবিলম্বে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা ও ৫% ইনক্রিমেন্ট প্রদান করে শিক্ষক কর্মচারীদের অসন্তোষ নিরসন করা হউক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্রুত অগ্রসরমান বাংলাদেশের শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আমলেই শিক্ষকরা ২০% মহার্ঘ্য ভাতা, জাতীয় বেতনস্কেল অন্তর্ভূক্তি, মেডিকেল ও বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধি সহ বেশ কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু বৈশাখী ভাতা ও ৫% ইনক্রিমেন্ট বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে এই প্রত্যাশা সকলের।

(লেখক : কারা নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা, নির্যাতিত শিক্ষক নেতা, সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর