,

আগামী ১১-১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন দক্ষ-ত্যাগী নেতৃত্ব চায় আ’লীগ

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১১ ও ১২ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এবারের সম্মেলন অনেক কঠিন সময়ে। আর মাত্র সাড়ে সাত মাস পর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে এমন নেতৃত্ব বের করে আনতে চান দলের হাইকমান্ড। এ জন্য পারিবারিক ব্যাকরাউন্ড, চারিত্রিক ও আদর্শিক বিষয়ে বেশ জোড়ালো খোজখবর রাখছেন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। দলীয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোজখবর নিচ্ছেন তারা। পদপ্রত্যাশীদের নেতাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে নানা অভিযোগ। সম্মেলনকে সামনে রেখে মাদকাসক্ত, ইয়াবা ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, ঠিকাদার, বিবাহিত, নারী কেলেঙ্কারি ও বিএনপি-জামায়াতের পরিবারের সন্তানেরাই এগিয়ে। তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সিন্ডিকেট সদস্যদের বাসা বাড়ী-অফিসে ধর্না দিচ্ছেন। নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের গিয়ে সালাম দিয়ে আসছেন। এদের কারো কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বপালনকালে সংগঠন বিরোধী কাজের অভিযোগও রয়েছে।
এবার পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান সহ-সভাপতি সোহান খান, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, ঢাবি ছাত্রলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন পিন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি বায়েজিদ আহমেদ খান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক লালন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান, দারুস সালাম শাকিল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, ত্রাণ ও দুযোর্গ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, অ্যাপায়ন সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদসহ প্রায় দুই ডজন নেতা। তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্রলীগ নার্সিং করেন এমন নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।
একাধিক সংস্থা সুত্র জানায়, সহ-সভাপতি সোহান খান জয়ের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তার নামে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে তার সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিন্ঠ একজন বলেন, সোহান খান জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগই সত্য নয়। সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজনের পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াত করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাবির সূর্যসেন হলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের বিরুদ্ধে ঢাবির রেজিস্টার ভবনে টেন্ডারবাজি ও ঢাবির অস্থায়ী ক্যাম্পাসের দোকানগুলো চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাল ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে পিটানোর অভিযোগ রয়েছে। ঢাবির সেক্রেটারি হওয়ার সুবাধে তিনি ফ্লাটের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ব্যাংকক ভ্রমনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল আলীম খোকন তার আপন ভগ্নিপতি। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে, নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানকে হেনস্থা করার। সে ক্রিমোনলজি বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষায় ফেল করায় চেয়ারম্যানকে নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্থা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদ্য বিদায়ী সভাপতি বায়েজিদ আহমেদ খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। সভাপতি হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎভবন, শিক্ষাভবন, সড়কভবন, খাদ্যভবন ও পূর্তভবনসহ নানা ভবনে ঠিকারদারি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে এফডিসিতে তার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও একাধিক নায়িকার সাথে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ পুরানো। তার বিরুদ্ধে এক নায়িকাকে বিবাহ করার অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা হয়ে এফডিসিতে তার অবাধ যাতায়াত ভাল চোখে নেয়নি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সহ-সভাপতি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে রয়েছে, বিদ্যুৎ ভবনে ঠিকাদারির অভিযোগ। তার আপন বড় ভাইয়ের সাথে তিনি ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারির কাজ নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক লালন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের ঘনিষ্টজন। ব্যবসার কারণে মালয়েশিয়াতে গিয়ে ঝামেলা পড়ে দেশে ফেরত আসেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তের অভিযোগ উঠেছে। সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু নিজে মাদকাসক্ত ও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ আছে। ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে ফুলার রোডে এক রিক্সা চালককে চাপা দেন। পরে সে রিক্সা চালক মারা যায়। কিছুদিন রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিলেন। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কিছুদিন আগে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপদে মনোনয়ন চাওয়া আদম তমিজির পাবলিক রিলেশন অফিসার। তার হাতিরপুলে চুল কাটার সেলুন ও বিলবোর্ড ব্যবসায় রয়েছে। তিনি মুলত কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যের অন্যতম নেতা। আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়ের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি ২০১০ সালে যখন ঢাবিতে ভর্তি হন তখন আপন ফুফাতো ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক আদনান আল বাবুর (সরপো বাবু) হাত ধরে প্রথমে ছাত্রদল করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পিতা ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্র“য়ারি বির্তকিত সংসদ নির্বাচনে বাবুগঞ্জ থেকে বিএনপির ডামী প্রার্থী ছিলেন। জয়ের চাচাতো ভাই কামরুল হাসান হিমু বাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। গত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রাথী ছিলেন। জয়ের ভাগিনা রুশো স্যার এফ রহমান হলের ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। ত্রাণ ও দুযোগ সম্পাদক ইয়াজ আলম রিয়াদ সাংগঠনি কর্মকান্ডে নিস্ক্রিয়। বর্তমানে তার ছাত্রত্বও নেই। অ্যাপায়ন সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে একাধিকবার ফোন করলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বিকার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর