,

পঞ্চগড় চিনিকলে ৩০ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না শ্রমিক-কর্মচারীরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না পঞ্চগড় চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা। চিনির মূল্য নির্ধারণে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অসম প্রতিযোগিতার কারনে চিনিকলের চিনি বিক্রি না হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন দিতে পারছেনা।
গত জানুয়াারী মাসের বেতন পাওয়ার পর মে মাস শেষ হতে চললেও এখনও তারা বেতনের কোন আশ্বাস পাননি। আগামি ঈদের আগে বেতন পাবেন এমন কোন নিশ্চয়তা না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়াসহ রমজান মাসে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানান, প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমিয়ে ৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হলেও চিনিকলের চিনি বিক্রি কাঙ্খিতহারে বাড়ছেনা।
পঞ্চগড় চিনিকলের গুদামে এখনও পড়ে আছে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন চিনি। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার মত। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মৌসুমের উৎপাদিত গুদামে থাকা চিনি নষ্ট হতে চললেও সরকারিভাবে কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছেনা। দেশের মোট চাহিদার খুব কম সংখ্যক চিনি উৎপাদন করে চিনিকলগুলো। এর পরও চিনি বিক্রয় হচ্ছে না। চিনিকলের উৎপাদিত চিনি মিষ্টি বেশি ও স্বাস্থ্যসম্মত হলেও বেশি সুযোগ সুবিধা দেয়ার কারণে বিদেশ থেকে আনা ক্রুড থেকে উৎপাদিত পরিশোধিত সাদা চিনি দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। প্রাইভেট কোম্পানিগুলো তাদের চিনি কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা কমে বিক্রয় করার জন্য চিনিকলের উৎপাদিত চিনির চাহিদা অনেক কমে গেছে। অনেকের মতে, মাত্র ২ থেকে ৩ মাসের জন্য বিদেশ থেকে চিনি আমদানি বন্ধ করে দিলেই চিনিকলের সকল চিনি বিক্রি হয়ে যাবে। এতে করে চিনিকলগুলো লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসানুজ্জামান বলেন, দেশের চিনিকলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেসরকারী চিনি পরিশোধনকারী কারখানার মালিকরা। বিক্রয় না হওয়ায় আমাদের চিনির দাম কমালে তারাও দাম কমায়। আমাদের উৎপাদিত চিনি বাকিতে বিক্রয় করার কোন সুযোগ নেই। অথচ তারা নিজস্ব পরিবহনে করে ব্যবসায়ীদের গুদামে বাকিতে চিনি পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের মিলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৬ হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ আমাদের শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চার মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না। রমজান মাসে তারা কিভাবে যে সংসার পরিচালনা করছে তা মূখে বলে প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আগামী ঈদের আগেই তাদের সকল বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনুর রেজা প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত থাকার কথা স্মীকার করে বলেন, ঘরে ৩০ কোটি টাকার চিনি পড়ে থাকলেও আমরা শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না। কেজিতে ১০ টাকা দর কমিয়েও চিনি বিক্রয় হচ্ছে না। সদর দপ্তর থেকেও কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় আমরা চার মাস ধরে তাদের বেতন দিতে পারছি না। আর সরকারি দরের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রয় করতে পারিনা। আগামী ঈদের আগে তাদের বেতন দিতে পারব এমন নিশ্চয়তাও আমি দিতে পারছি না। বিষয়টি সদর দপ্তরও অবহিত রয়েছে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর