,

পঞ্চগড়ে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগে একাধিকপ্রার্থী বিএনপি ব্যারিষ্টার জমির উদ্দীনকে দিয়ে আসনটি নিতে চায়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ জাতীয় নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন বিএনপি নিতে সাবেক স্পীকার ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকার এই আসনে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।পঞ্চগড় সদর উপজেলা, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচনী আসন। এলাকায় বিএনপির একটা শক্ত অবস্থান থাকলেও অভ্যন্তরীন বিরোধের কারনে আগামী নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া দলটির জন্য কঠিন হতে পারে। তাছাড়া দুইবার ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির মধ্যে কমিটি নিয়ে বিরোধও এখন প্রকাশ্য।
তবে শাসক দল আওয়ামী লীগেও যে বিরোধ নেই তা নয়। শাসক দলের বিদ্যমান বিরোধ এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও বিএনপির মতো অতটা কট্টর অবস্থাানে নেই আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী। তবে প্রার্থীদের প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক ছাড়াও দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নেয়া, এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করে নিজেদের তুলে ধরার একটা প্রবনতা রয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে। নির্বাচনী এলাকার মোড়ে মোড়ে ঝুলছে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানার। প্রার্থীদের তৎপরতা দেখে ভোটারদের মধ্যেও কিছুটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ে বিএনপিতে কোনো কমিটি না থাকায় দলের অভ্যন্তরীন বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কোনো রাজনৈতিক তৎপরতাও নেই দীর্ঘদিন ধরে। অন্যান্য উপজেলার অবস্থা হ.য.ব.র.ল। মূলত কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপিতে বিরোধের সূত্রপাত হলেও দলের হাইকমান্ড দীর্ঘদিনেও বিরোধ নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে জনমনেও নানাবিধ গুঞ্জন তৈরী হয়েছে।
বিএনপির শক্তিশালী এ দুই গ্রুপের একটির নেতৃত্বে পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পীকার ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকার। বিএনপির মধ্যে বিদ্যমান এ বিরোধের জন্য তৃনমূল বিএনপি দায়ী করছে ব্যারিষ্টার জমির উদ্দীন সরকারের একগুঁয়েমিকেই।
এ আসনে বিএনপির একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন প্রয়াত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা গোলাম হাফিজ, ’৯৬ সালে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্পকার ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকার।
২০০১ সালে ফের বিজয়ী হন মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজাহারুল হক প্রধান। সবশেষ নির্বাচনে বিজয়ী হন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। আগামী নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীকে জোটের প্রার্থী হতে চান।
বিএনপিতে অভ্যন্তরীন বিরোধ থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকারের পাল্লাটাাই ভারী। তবে কোনো কারনে যদি তিনি মনোনয়ন না পান, সেক্ষেত্রে তার ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির ধানের শীষে মনোনয়ন চাইবেন। তবে তার বাবা মুহাম্মদ জমির উদদ্দীন সরকারের মতো অবস্থান অতোটা শক্ত নয়।
পঞ্চগড় পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ তৌহিদুল ইসলামও নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় অব¯’ানে রয়েছেন। অপরদিকে ২০ দলীয় জোট থেকে এ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে জাগপা কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ব্যারিষ্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই মাঠে রয়েছেন।
তিনিও ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। জাগপার প্রয়াত নেতা শফিউল আলম প্রধানের বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে পঞ্চগড়-১ আসনে। শফিউল আলমের মৃত্যুর পর বাবার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চান তার মেয়ে ব্যারিষ্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই।
এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে নানা হিসাব চলছে। মনোনয়ন নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়িও কম হচ্ছে না। এ প্রশ্নে সবাই তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়ন পেতে চাইছেন তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নাঈমুজ্জামান মুক্তা। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন প্রকল্পে কাজের সুবাদে মুক্তার একটি পরিছন্ন ইমেজ গড়ে উঠেছে এলাকায়। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের প্রার্থী হতে আগ্রহী।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ মজাহারুল হক প্রধান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন স¤্রাট রয়েছেন নৌকার প্রার্থী হবেন এমন প্রত্যাশা করছেন।তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা রকমের হিসাব-নিকেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর