,

কাপাসিয়ায় যৌতুকের দাবিতে প্রতিবন্ধী স্ত্রী নির্যাতনের শিকার

সমীর বনিক, প্রতিনিধি,কাপাসিয়া (গাজীপুর)
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পাষন্ড স্বামী যৌতুকের দাবিতে প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের মাতাবপুর গ্রামের মোঃ হালিম উদ্দিনের মেয়ে রিয়া আক্তার নির্যাতনের বিচার চেয়ে ও স্বামীর পরিবারে স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে ফিরে যাবার দাবিতে থানা ও আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী রিয়া আক্তারের (২২) সাথে একই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সোহাগের (২২) দীর্ঘ দিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে গত ২০১৬ সালের ২৫ জুন ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তারা সামাজিক ও আইনগতভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সোহাগের বাড়িতে সংসার করতে থাকে। বিয়ের পরপরই তাদের দাম্পত্য জীবনের সুখের কথা ভেবে রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার আসবাব পত্র উপহার হিসাবে দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই স্বামী সোহাগ মটর সাইকেল কেনার জন্য রিয়ার বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা এনে দেবার জন্যে স্ত্রীকে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। রিয়া তার পরিবারের দৈন্যদশার কথা উল্লেখ করে যৌতুকের চাহিদা মিটাতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রায়ই কথা কাটাকাটির পর সোহাগ তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ নিয়ে রিয়ার পরিবার স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা চালালেও বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেনি। চলতি বছরের ৬ মে উক্ত যৌতুকের দাবিতে রিয়াকে সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজন বেধরক মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়। পর দিন ৭ মে প্রতিবন্ধী রিয়া বাদী হয়ে সোহাগ, তার মাতা খোদেজা বেগম, পিতা আবুল কাশেম ও তার ভাই সুমনকে আসামী করে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার না পেয়ে সে গত ২৪ জুন গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারায় সোহাগ, তার মাতা খোদেজা বেগম ও পিতা আবুল কাশেমকে আসামী করে একটি মামলা (২০৮/২০১৮) দায়ের করে। এতে সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়া ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণ নাশের হুমকি দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে সে গত ২৮ জুন কাপাসিয়া থানায় সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (নং- ১০৬৭ ) করে। এ ব্যাপারে সোহগের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে সে নিজের পরিচয় গোপন করে অন্যদের দিয়ে ফোন রিসিভ করিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, রিয়া ও সোহাগের বিয়ে হয়েছিল। তাদের মাঝে নানা সমস্যা চলতেছিল। আমরা আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করেও ছেলে পক্ষকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছি। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর