,

আটোয়ারীতে দপ্তরী নিয়োগে অভিযোগে ইউএনওসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার (৪ জুলাই) পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একজন চাকরী প্রার্থী মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরন থেকে জানা যায়, গত ২৫ মে আটোয়ারী উপজেলার ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১ জুলাই ওই নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটি। নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা মানা হয়নি এবং প্রত্যেক প্রার্থী নিয়োগে টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।
দাড়খোর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় একমাত্র প্রার্থী হয়েও উপজেলার কাটালী মীরপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সলিম উদ্দিনের ছেলে সাহিবুল ইসলাম নিয়োগ না পাওয়ায় কমিটির সভাপতি ও আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন সুলতানাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।
শনিবার বিচারক ওই নিয়োগের উপর কেন স্থগিতাদেশ করা হবে না তা জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৫ জনকে শোকজ করে। সেই সাথে ৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেন আদালত। মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন- দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও আটোয়ারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিফ, দাড়খোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়া সাদেকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আটোয়ারী উপজেলায় ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম নৈশ্য প্রহরী পদে একজন করে প্রার্থী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন।
মামলার বাদী সাহিবুল ইসলাম জানান, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়াও আমি আনসার ও ভিডিপি থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত হওয়া সত্যেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আমি একমাত্র প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে অন্যকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাই আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রার্থী জানান, আমার কাছে নিয়োগ কমিটি ২ লাখ টাকা দাবী করেছে। কিন্তু আমি তা দিতে পারিনি বলে আমার চাকরী হয়নি।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন সুলতানা জানান, নীতিমালায় কোথাও বলা নেই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ দিতে হবে। একাধিক জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় আসে। একজনের ক্ষেত্রে আসে না। নিয়োগে টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না । মামলা হয়েছে সে বিষয়ে জবাব দিবো সমস্যা কি।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর