,

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার নির্বাহী অফিসার বেগম শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি কাবিখা,কাবিটা, টিআর ও আশ্রায়ন প্রকল্প সহ ভিজিডি , ভিজিএফের কার্ড প্রদানে দুর্নীতির নানাবিধ অভিযোগ এনে একটি গনস্বাক্ষরিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে প্রেরন করা হয়েছে।
উক্ত অভিযোগে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুর রব ও যুগ্ম সম্পাদক এড. আনিছুর রহমান সহ ইউনিয়েনর চেয়ারম্যান সহ জেলা পরিষদের সদস্য ও মহিলা সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাকমীরা স্বাক্ষর করেছেন।
ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম শারমিন সুলতানা আটোয়ারীতে যোগদান করার পর হতে সুকৌশলে বিএনপি জামাতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি ইতিপূর্বে এডিবি কর্তৃক অনুদানের টাকা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্থানীয় বিএনপি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের যোগসাজসে যুবদলের সভাপতির সন্তান ব্যারিষ্টার জমির উদ্দীন সরকারের সাবেকএপিএস মতিয়রের সন্তান, বিএনএপি নেতা জহিরুলের সন্তান,বাকী সাহেবের সন্তানসহ সকল বিএনপি যুবদল ইউনিয়ন ও থানা কমিটির নেতাকর্মীদের সাইকেল ক্রয় করে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আওয়ামীলীগের গরীব নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীরা আবেদন করলেও সুকৌশলে তাদের বাদ দেন। এছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত এলাকার গরীবও দলীয় নেতাকর্মীদের সন্তানদের চাকরী দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী পদে নিয়োগের কথা বলা হলেও উক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন রকম আলাপ-অলোচনা ছাড়াই আওয়ামীলীগের গরীব নেতাকর্মীদের সন্তানদের বাদ দিয়ে তিনি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিএনপি জামাতের লোককে নিয়োগ দেন।
যাদের নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে তাদের গোয়েন্দা রির্পোট (ডিএসবি) বিএনপি-জামাত প্রমানিত হলেও তাদের নিয়োগ প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোয়েন্দা রির্পোটে ৩ জনের নামে সুস্পষ্ট বিএনপি –জামাত উল্লেখ করা হলেও তিনি প্রতি জনের নিকট ৩ লাখ টাকা করে তাদের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী পদে নিয়োগ প্রদান করেন।
নির্বাহী অফিসার পরিপত্র অনুযায়ী প্রতি বিদ্যালয়ে ক্রমানুসারে ৩ জনের নাম ঘোষনা করার নিয়ম থাকলেও তিনি মাত্র এক জনের নাম ঘোষনা করেন।
এছাড়া সরকারে দেওয়া কাবিটা, টিআর এর মাধ্যমে মসজিদ মন্দির সহ নানা কাজে শতকরা ২৫% উৎকোচ আদায় করেন। তা না দিলে বিলে স্বাক্ষর করেন না। জমির খারিজে তিনি সর্ব নিন্ম ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেন।মোবাইল কোর্টে টাকার বিনিময়ে খালাস দেন।
অপরদিকে আশ্রয়ন প্রকল্পে সরকারে দেয়া এক লাখ টাকার কাজ তিনি অন্য জেলা হতে শ্রমিক এনে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় করে ৪০ হাজার টাকা আতœসাত করেন।তার এসব কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি মোবইল কোর্টের ভয় দেখান।অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগে ও বিএনপি –জামাতের লোকজনকে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন।তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম শারমিন সুলতানা ভিজিএফ ভিজিডি ওবয়ষ্ক,মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে চাপ দিয়ে প্রদানে নিজ হাতে ৩০% ভাগ রেখে তিনি তারমনোনীত বিএনপি জামাতের লোকদের নিকট টাকার বিনিময়ে তা বিতরন করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে তার অরো বহু দূর্নীতি রয়েছে। তার এহেন দুর্নীতিও স্বজনপ্রীতি ও নানা রকম অনিয়মের কারনে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি দারুন ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।
ওই লিখিত অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনার রংপুর বিভাগ,রংপুর সহ প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব,মাননীয় মন্ত্রী জনপ্রশাসন, সংসদ সদস্য পঞ্চগড়-২১ ও জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের নিকট প্রেরন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম শারমিন সুলতানার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি জানি দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ দিলে এমন ঝামেলা আমার উপড় আসবে। তাই ওই নিয়োগ দিতে চাইনি। এমপি স্যার তাগিদ দেওয়ায় নিয়োগ দেই।তিনি বলেন, আমি ডিএসবির রির্পোট দেখে নিয়োগ দেই। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তারা কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত নয়। সে কপি আমার নিকট অছে। তদন্ত হোক আমি তা দেখাবো।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, সত্য নয় বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, আগেও এরকম অভিযোগ করা হয়েছে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর