,

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে নির্ভুল করতে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ২০১০ সালে হাতে লেখা পাসপোর্টের পরিবর্তে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) চালু হয়। এরপরও এই পাসপোর্টে জালিয়াতি হচ্ছে। এ কারণে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল, সহজতর ও সময়সাশ্রয়ী করতে ই-পাসপোর্ট চালু করা হচ্ছে। বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অত্যাধুনিক ই-পাসপোর্টের যুগে পা রাখছে। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ই-পাসপোর্ট চালু করতে জার্মান ভেরিডোস কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি করেছে বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। জিটুজির ভিত্তিতে টার্ন কি পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জার্মানির পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নেইলস আনে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী। চুক্তি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান ও জার্মানির ভেরিডোস জিইউএমবিএইচ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কুন্স।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল কার্যক্রম অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ২০১০ সালে এমআরপি চালু করা হয়। এ বছরের ৩০ জুন এমআরপি প্রকল্প শেষ হয়েছে। এরপরও আবেদনকারীদের এমআরপি দেওয়া হবে। আশা করছি, শিগগিরই ই-পাসপোর্ট প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দুই কোটির বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে এমআরপি দেওয়া হয়েছে। ১১ লাখের বেশি মেশিন রিডেবল ভিসা বিদেশিদের দেওয়া হয়েছে। ই-পাসপোর্ট সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি চালু থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের এ দেশে থাকার সুযোগ দিয়ে মাদার অব হিউম্যানিটি আখ্যা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিশে যেতে না পারে, সে জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অনেক সফলতা দেখিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ইলেকট্রনিক নিবন্ধনের কাজটিও সম্পাদন করেছে।

জার্মানির পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নেইলস আনে বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশ খুব অল্প সময়ে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। জার্মান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ফলে বাংলাদেশ তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পথে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এর আগেও আছে। বাংলাদেশিদের এ কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। 

জার্মান কোম্পানির সিইও কুন্স বলেন, তারা ৫০টি দেশের ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করেছেন। নতুন করে বাংলাদেশের দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ। এই পাসপোর্টে রঙিন ছবিসহ পলিকার্বোনেটেড ডাটাপেজ থাকবে, যা শুধু পৃথিবীর দুটি দেশে রয়েছে। এ ছাড়া এই পাসপোর্ট অত্যন্ত নিরাপদ। 

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএসবিএইচের সঙ্গে চুক্তির মূল্য তিন হাজার ৩৩৮ কোটি, কাস্টম ডিউটি, ভ্যাট, এআইটি এক হাজার ২৪ কোটি এবং প্রকল্প ব্যয় ২০৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রচলিত ছিল। ২০১০ সালে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করে। এমআরপিতে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকলেও এতে জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। 

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, ই-পাসপোর্ট হলো বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ থাকবে। এই মাইক্রোপ্রসেসর চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ) তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পাসপোর্টধারীর পরিচয়ের সত্যতা থাকে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে জালিয়াতি করা কঠিন হবে। জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস তিন কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরবরাহ করবে বাংলাদেশকে। এ লক্ষ্যে ঢাকার উত্তরায় একটি অ্যাসেমব্লি কারখানা স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্প জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে টার্ন কি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

এ প্রকল্পের আওতায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলো স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনার (ই-গেট) আওতায় আনা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোয় ৫০টি ই-গেট স্থাপন করা হবে। ভেরিফিকেশনে ব্যক্তির তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে ই-গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। এ পদ্ধতিতে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা অধিক কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর