,

হুমায়ূন আহমেদের শেষের দিনগুলো যেভাবে কেটেছিলো

আমেরিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই মারা যান বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ । কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দশ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
দেশ থেকে বহু মাইল দূরের এক শহরে তার জীবনের শেষের দিনগুলো কেমন কাটছিল সে নিয়ে আগ্রহ তার অনেক পাঠক-অনুরাগীর। আজ ১৯শে জুলাই তার প্রয়াণ দিবসে সেই সময়ের দিকে ফিরে তাকিয়েছে বিবিসি বাংলা।
কর্কট রোগের সাথে লড়াই শুরু
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে রুটিন শারীরিক পরীক্ষা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবেই ধরা পড়ে হুমায়ূন আহমেদের কোলনে (বৃহদান্ত্রে) ক্যান্সার তা-ও চতুর্থ পর্যায়ে।
হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেষদিন পর্যন্ত নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছিলেন বিজ্ঞানী, গবেষক ও লেখক পূরবী বসু্ । ‘নিউইয়র্কে হুমায়ুন আহমেদের ক্যান্সার চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ’ নামে একটি বই লিখেছেন তিনি।
সেখানে পূরবী বসু লেখেন, “স্টেজ ফোর ক্যান্সার মানে সবচেয়ে পরিণত বা Advanced Stage-ক্যান্সার। স্টেজ ফোর-এ কর্কট কোষগুলো মূল জায়গা ছাড়াও শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। কোলন ক্যান্সারে চার নম্বর স্টেজ থেকে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা খুবই কম, (শতকরা ৭% এর মতো)। সিঙ্গাপুরের ডাক্তাররাই দুঃসংবাদটি দিয়ে হুমায়ূনকে জানিয়েছিলেন কোলন থেকে তার ক্যান্সার লিভারের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সম্ভবপর চিকিৎসার মধ্যে ছিল কেমোথেরাপি অথবা কিছু কেমোথেরাপি আর সার্জারি। কিন্তু অসুখের নামটা শুনেই হুমায়ূন মনে মনে স্থির করে ফেলেছেন ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো জায়গায় যাবেন এবং সেটা সিঙ্গাপুর নয়। আমেরিকা। ”
কেমোথেরাপি-সার্জারির ‘দীর্ঘ নি:সঙ্গ ভ্রমণ’ শুরু
নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টার ডাক্তার দেখাবার জন্যে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থাও করেছিলেন পূরবী বসু। আশি- নব্বইয়ের দশকে প্রায় এক যুগ ধরে তিনি স্লোন ক্যাটারিংয়ে গবেষণার কাজ করেছিলেন ।
“২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সপরিবারে হুমায়ূন নিউইয়র্কে পৌঁছান আর সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ দুপুর একটায় তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক হয় স্লোন ক্যাটারিংয়ে। সেদিন সব কাগজপত্র, প্লেট দেখে, কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তার স্থির করেন প্রথম কিস্তিতে ছয়টি কেমো নিতে হবে। হুমায়ূনের ক্যান্সারের তখন যে অবস্থা (স্টেজ চতুর্থ), তাতে তখন আর সার্জারি করা সম্ভব ছিল না। ”
প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রথম চারটি কেমো নেয়ার পর রিভিউতে যখন দেখা গেল টিউমারের সাইজ একটুও কমেনি তখন তিনি কিছুটা চিন্তিত হয়েছিলেন তবে খুব একটা তার মধ্যে প্রভাব পড়েনি। এ কিন্তু আটটি কেমো নেয়ার পর আবার রিভিউ হল এবং তখন তিনি সাময়িকভাবে কিছুটা ভেঙে পরেছিলেন।”
এমনিতেই বেড়াতে পছন্দ করতেন হুমায়ুন আহমেদ। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি ভ্রমণ করেছেন। আমেরিকায় চিকিৎসাধীন সময়েও তা বহাল ছিল। মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“একটা করে কেমোর পরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি। চিকিৎসকের পরামর্শও ছিল যে তোমরা ঘোরাঘুরি করো মানসিকভাবে সে যেন সুস্থ থাকে।”
সৃত্র ঃ বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর