,

আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণ কী পেল সেটাই আমার বড় চাওয়া। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পবিরারের সকলকে হারিয়ে ৬ বছর পর দেশে ফিরে স্বজনদের ফিরে না পেলেও পেয়েছি দেশের লাখ লাখ মানুষের ভালোবাসা।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে শুরুতেই এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, কলকাতা থেকে ডি-লিট উপাধি পাওয়াসহ নানা সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ শনিবার গণসংবর্ধনা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরি, তখন লাখ লাখ মানুষ আমাকে বরণ করে নিয়েছেন। আমি সেই লাখ লাখ মানুষের মাঝে আপনজনদের খুঁজেছি কিন্তু পাইনি, সেদিন পেয়েছিলাম বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের ভালোবাসা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, স্বজনদের হারিয়ে আমরা দুই বোন সেই সময় দেশে ফিরতে পারিনি ৬ বছর বিদেশে কাটিয়েছি। সেই সময় আমরা ভারতে এসেছিলাম। ভারতে ইন্দ্রাগান্ধী আমাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। আমার বোন শেখ রেহেনা ১৯৮০ সালে সুইডেনে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রথমবার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিবিসির বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে স্বপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মেজর ডালিম তার দেয়া স্বাক্ষাতকারে এটা স্পষ্ট বলেছেন, আমরা মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা কমাতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি তার জনপ্রিয়তা কমানোর কিন্তু বাংলার মানুষের মন থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা কমাতে পারিনি। তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে হত্যা করা ছাড়া কোনো পথ ছিলো না।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর সারা বিশ্বে খুনি জাতি হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলেই স্বজনদের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে মামলা করতে পারে কিন্তু সেই সময় আমরা বিচার চাইতে পারিনি। কোনো মামলা করতে পারিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর আমরা দুই বোন দেশে ফিরতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি।

বিকেল চারটা ৪২ মিনিটে ভাষণ দিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি লোকে লোকারণ্য উদ্যানে গিয়ে পৌঁছান। শেখ হাসিনা মঞ্চে উঠতেই স্লোগানে আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহাসিক উদ্যান। আধা ঘণ্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মানপত্র পাঠ করেন। এই মানপত্র তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যা কিছু অর্জন করেছে, মহান ত্যাগ করেই অর্জন করেছে।

শনিবার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমাবেশ হতে থাকে। ছোট ছোট মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে অবস্থান শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসার বেশ আগেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছে গেছেন। বেলা দুইটায় সংবর্ধনার মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টার পর থেকে মিছিল আসা শুরু হয়। পিকআপ নিয়ে মিছিল করে নেতা-কর্মীরা ঢুকে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সকাল থেকে কোনো বাস ঢুকতে দেয়া হয়নি। কাঁটাবন দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সমাবেশে যেসব গাড়ি আসছে, সেগুলো পাঠিয়ে দেয়া হয় মল চত্বরে। বাংলামোটর এলাকায় ডাইভারশন দেয়ার কথা থাকলেও সকালে রাস্তায় যানজট কম থাকায় সেখানে ডাইভারশন দেয়া হয়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই সংবর্ধনাস্থলের আশপাশের প্রায় সব সড়কে ডাইভারশন দেয়া হয়। বেলা একটার পর থেকে ভিআইপি রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, পল্টন, মৎস্য ভবন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় যানজট দেখা দেয়।

শাহবাগ এলাকায় ছোট ছোট মিছিলে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে। এসব ব্যানারে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে নানা অর্জনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এ সমাবেশ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকা থেকে পরিবহনযোগে ও হেঁটে অসংখ্য নেতা-কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তি, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এই সমাবেশে উপলক্ষে ব্যাপক শোভাযাত্রা করেছে আওয়ামী লীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর