,

পঞ্চগড়ে সরকারি হাসপালে HBS Ag ভূল রির্পোটে প্রসূতি মায়ের হয়রানি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি পঞ্চগড় আধনিক সদর হাসপাতালের একটি ভূল প্যাথলজি রিপোর্টের কারণে এক প্রসূতি মা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর প্রভাবে পরবর্তিতে নবজাতকের সমস্যার আশঙ্কা পরিবারের। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের টেকনোলজিস্ট এই ভূল রির্পোট দেন। এ নিয়ে রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রসূতি মায়ের স্বামী বিপ্লব হাসান।
লিখিত অভিযোগ জানা গেছে, সদর উপজেলার সাহেবিজোত এলাকার বিপ্লব হাসান গত ১৭ জুলাই বিপ্লব হাসান তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী শ্যামলী আক্তারের প্রসব ব্যাথা শুরু হলে দ্রুত তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে HBS Ag (হেপাটাইটিস বি) সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরীক্ষার রির্পোটে হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট লাভলি আক্তার HBS Ag পজেটিভ চিহ্নিত করে রিপোর্ট প্রদান করেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে শ্যামলী আক্তারের বেডের সামনে HBS Ag পজেটিভ লিখে একটি সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে হাসপতালের কোন নার্স কিংবা চিকিৎসক রোগীর কাছাকাছি পর্যন্ত যাননি। এক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা সেবা না দিয়ে প্রসূতি মাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় রোগীর প্রসব ব্যাথা বাড়তে থাকলেও প্রসূতি মা’কে হাসপাতাল থেকে জোড় পূর্বক বের করে দেওয়া হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের রিপোর্ট দেখে শুরুতে তাকে ভর্তি করা হয়নি। অনুরোধের এক পর্যায়ে সেখানকার পরিপাকতন্ত্র লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাখাওয়াত হোসেন আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবারও পরীক্ষা নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। তাঁর কথামত রংপুরের আপডেট ডায়াগনস্টিক এর কনসালটেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান তার রির্পেটে ঐইঝ অম নেগেটিভ বলে উল্লেখ করেন। হেপাটাইটিস বি নেগেটিভ সনাক্তের পর প্রসূতি মাকে চিকিৎসক আবারও পঞ্চগড়ে স্থানীয় কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে প্রসূতি মাকে স্থানীয় নিউ লাইফ ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। ক্লিনিক কতৃপক্ষ আরও তাকে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার পরামর্শ দিলে নর্দান ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে তাকে আবারও পরীক্ষা করা হয়। সেখানকার রির্পোটেও হেপাটাইটিস বি নেগেটিভ বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর শনিবার ওই ক্লিনিকেই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শ্যমলী আক্তার একটি কন্য সন্তানের জন্ম দেন।
অভিযোগে বলা হয়, সদর হাসপাতালের মত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূল রিপোর্টে প্রসূতি মাসহ পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। এতে নবজাতকের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পরতে পারে। এ জন্য মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট লাভলি আক্তার ভূল রিপোর্টের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সঠিক পদ্ধতিতে টেষ্ট করা হয়। পরীক্ষা করে ঐইঝ অম পাওয়ায় পজেটিভ রির্পোট দেওয়া হয়। কোন টেষ্টের ক্ষেত্রে এক প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে পজেটিভ বা নেগেটিভ হতেই পারে।
সিভিল সার্জন নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। আমি বিকেলে পঞ্চগড়ে আসবো। এছাড়া রিপোর্ট টি কোন পক্রিয়ায় করা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় স্কিন মেথডের রিপোর্ট কনফাটেরী মেথডে ভূল দেখাতে পারে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর