,

পীরগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে নানামুখী দুর্নীতি অনিয়ম আজও বন্ধ হয়নি

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের নানামুখী দুর্নীতি অনিয়ম আজও বন্ধ হয়নি। অভিযোগে প্রকাশ, পীরগঞ্জে সাব রেজিষ্ট্রার হিসেবে সামসুজ্জামান সরদার যোগদানের পর এই অনয়মের মাত্র বেড়ে যায়। নির্ভরযোগ্য একাধিক বিশ্বস্থ সুত্র জানায়,সাব রেজিষ্ট্রার সামসুজ্জমান ও ওই অফিসের সহায়ক আবু বক্কর এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ দলিল লেখকগন প্রতিটি দলিলের অনুকুলে বাধ্যতামুলকভাবে দুই হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। এছাড়া হলফনামা মাত্র ১’শ টাকার স্থলে জোর পুর্বক ১ হাজার টাকা হারে আদায় করা হয়। যে কারনে প্রতিটি দলিল সম্পাদনে সরকারের নির্ধারিত ফি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র চাঁদাই দিতে হয় তিন হাজার টাকা। জানা গেছে,সাব রেজিষ্ট্রার সামসুজ্জামান সরদার প্রতি সপ্তাহে ইচ্ছাকৃত সোম মঙ্গল ও বুধবার এই তিন দিন পীরগঞ্জে অফিস করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি বেকায়দায় পড়ে যান এবং প্রতি সপ্তাহে ৪ দিন অফিস শুরু করেন। গত সপ্তাহ থেকে আবারও পুর্বের মতো ৩ দিন অফিস শুরু করেছেন। বাকি দিনগুলো তিনি ইচ্ছাকৃত কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেন। যে কারনে অই তিন দিনে এখানে দলিলের পাহাড় জমে যায়। কোন কোন দিন ২/৩’শ দলিলও রেজিষ্ট্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। এসব দলিলের প্রতিটি সম্পাদনের জন্য সাব রেজিষ্ট্রার সামসুজ্জামান সরদার কে ১ হাজার টাকা হারে নগদ নজরানা দিতে হয়। তা না হলে তিনি কোন দলিলে স্বাক্ষর করেন না। রোজ অফিস শেষে দলিল লেখকদের কাছে হিসেব কষে সাব রেজিষ্ট্রারের এই টাকা আদায় করেন ওই অফিসের অফিস সহায়ক আবু বক্কর। তিনিই ব্যাগ ভর্র্তি টাকা সহ রেজিষ্ট্রারকে সাথে নিয়ে অফিস শেষে একসাথে রংপুরের উদ্দেশ্যে চলে যান। সুত্রটি দাবি করেছে,যে কোন দিন এ দু জনের দেহ তল্ল¬াশী করলেই বিষয়টি বুমেরাং হয়ে যাবে। জানা গেছে,চলতি বছরের ১৪ মে পীরগঞ্জে যোগদান করেই তিনি প্রতিটি দলির সম্পাদন্যে ১ হাজার টাকা করে দাবি করেন। এতে দলিল লেখকগন বিপাকে পড়ে যান। প্রথম দিনেই দিনভর দলিল লেখা ও সম্পাদন কাজ বন্ধ থাকে। পড়ন্ত বিকেলে দলিল লেখক নেতৃবৃন্দের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আপাতত প্রতিটি দলিলে ১ হাজার টাকা হারে প্রদানের অলিখিত চুক্তি হলে সন্ধ্যার পুর্ব মুহুর্তে দলিল লেখা ও সম্পাদনের কাজ শুরু হয়। সেই থেকে আজ অবধি অলিখিত অই চুক্তিতেই চলছে দলিল সম্পাদন। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নশীপ প্রাপ্ত মুজিব নগরের সনদে নিয়োগপ্রাপ্ত সাব রেজিষ্ট্রার সামসুজ্জামান সরদার এর দাবিকৃত এই টাকা আদায়ের জন্য দলিল লেখকগন সুযোগ বুঝে প্রতিটি দলিলে চাঁদা হিসেবে দুই হাজার এবং হলফনামার নামে ১ হাজারসহ মোট তিন হাজার টাকা করে বাধ্যতামুলক হাতিয়ে নিচ্ছেন জমির ক্রেতাদের কাছে। যারা এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন তাদের জমি কোন ভাবেই রেজিষ্ট্রি হচ্ছে না এখানে। স্মরনযোগ্য যে ,ওই অফিসে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার দলিল সম্পাদন হয়। এ ব্যাপারে জমির ক্রেতা বিক্রেতা ও দলিল লেখকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ধুরন্ধর সাব রেজিষ্ট্রার শামসুজ্জামান সরদার “সময় নেই, ব্যস্ত আছি” বলে পাশ কেটে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক বলেন- আমাদের হাত পা বাঁধা। প্রতিবাদ করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয়া হয়। এলাকাবাসী এ ব্যপারে দুর্নীতি দমন কমিশন,সংশ্লি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারি সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর