,

পঞ্চগড়ে লোডশেডিংও লোভোল্টেজ দুর্ভোগে সাধারন মানুষ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ॥ পঞ্চগড়ে অসহনীয় লোডশেডিং আর লো ভোল্টেজের কারনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এদিকে লো ভোল্টেজের কারনে টিভি ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড গরম এবং লো ভোল্টেজের কারনে ঘুরছে না ফ্যান, জ্বলছে না বাতি। এতে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
এ অবস্থা চলছে প্রায় বছর ধরে কর্তৃপক্ষের। নেসকোর লোকজন শুধু মাত্র বিল আর দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত। এ ব্যাপারে তারার কিছু বলছেনা।নেসকোর প্রায় ৫/৬ প্রকৌশলী রয়েছেন, তারা বিল আর মিটার নিয়ে ব্যস্ত।
শিক্ষার্থীরা রাতের বেলায় পড়তে পারছে না। গত কয়েক মাস ধরে এই অবস্থা চললেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখাচ্ছে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। তবে জানা যায়, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ির ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই লো ভোল্টেজের শিকার হচ্ছেন বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার অভিযোগ করেও কোনও সমাধান মিলছে না তাদের।
গত(৯আগষ্ট) বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পঞ্চগড় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানী লিমিটেডের (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। পরে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবিরকে সরেজমিনে লো ভোল্টেজ এলাকা পরিদর্শনে বাধ্য করা হয়।
জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকায় লো ভোল্টেজ পরিদর্শন করে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে কিছুটা শান্ত হয় গ্রাহকরা।

সরেজমিনে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, যারা নেসকোর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন তাদের অধিকাংশ গ্রাহকই লো ভোল্টেজের অভিযোগ করেন। গ্রাহকরা জানান, লো ভোল্টেজ ও ভোল্টেজ আসা যাওয়ার কারণে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে বাল্ব। এ ছাড়া কারও ফ্রিজ কারো টেলিভিশন নষ্ট হয়ে গেছে। লো ভোল্টেজের কারণে সিলিং ফ্যানগুলোও ঘুরছে না। রাতে বাল্ব না জ্বলায় শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে না। এ ছাড়া দিনে ছয় থেকে সাত বার লোডশেডিং হচ্ছে। ক্রমাগত লোডশেডিং আর লো ভোল্টেজের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে আবার কোথাও ক্ষেত খামার দিয়ে বাঁশের খুঁটি কিংবা গাছে গাছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার চলে গেছে বিদ্যুতের অবৈধ ফাটা তারের লাইন। কোথাও আবার মাথার সামান্য ওপরেই ঝুলছে খোলা তারগুলো। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো নেসকোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় দালালরা সরবরাহ করেছে। প্রত্যেক বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার নামে নেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। তবু তাদের বৈধ তারের সংযোগ মেলেনি।
পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফসানা খাতুন বলেন, ‘গরমের মধ্যে লো ভোল্টেজের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাতে গরমে ঘুমাতে পারি না।’
একই এলাকার আরজিনা খাতুন বলেন, ‘লো ভোল্টেজে বিদ্যুতের যে বাতি জ্বলে তার চেয়ে কূপিই ভালো। সন্ধ্যার পর ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে না। ফ্রিজের সব জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বার বার বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করলেও তারা কোনও প্রদক্ষেপ নেননি।’
ওই এলাকার জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারনে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আছি আমরা। টিভি ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফ্যান ঘুরছে না। এই গরমে ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়ে গেছি। অথচ প্রতিমাসেই বিদ্যুৎ বিল মিটারের রিডিংয়ের চেয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নেসকোর অফিসে অন্তত ১০ বার অভিযোগ করেছি। একদিনও কেউ দেখতে আসেননি।’
জানা যায়, সাবেক পিডিবি ও বর্তমান নেসকোর অবৈধ ফাটা তারের অসংখ্য লাইন সরবরাহ, গ্রাহকের চাহিদার অর্ধেক পরিমাপের ট্রান্সফরমার স্থাপন ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারনেই লো ভোল্টেজ দেখা দিচ্ছে।
নেসকোর পঞ্চগড় নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লো ভোল্টেজ দেখা দিচ্ছে। আমাদের মোট চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট। আমরা পাচ্ছি সাড়ে ১০ মেগাওয়াট। এই জন্য লোডশেডিং হচ্ছে। এটা কেবল পঞ্চগড়ের সমস্যা না সব জায়গায় একই অবস্থা। তবে আশা করি এই সমস্যা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।
অনেকে বলছেন, ফাটা তার অপসারন না করা হলে এ অবস্থা সহজে সমাধান হবে না।পঞ্চগড়ের জন্য এটি একটা বড় সমস্যা করে বিদ্যমান করেছে নেসকো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর