,

পঞ্চগড়ে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হতার অভিযোগ : স্বামী আটক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ॥পঞ্চগড়ে তেতুঁলিয়ার পর এবারে বোদায় লিজা আক্তার নামে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর পর তাকে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের স্বজনরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধারসহ তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশ আধুনিক সদর হাসপাতলের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আজিজুল ইসলাম (৫৫), তার প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে আল আমিন (২৫) এবং আল আমিনের শ^শুর আব্দুস সালাম (৫০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম ইউনিয়নের আজিজুল ইসলামের (৫৫) প্রথম স্ত্রী তিন সন্তান রেখে মারা যান। পরে তিনি একই উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের গাইঘাটা এলাকার লিজা আক্তারকে (৩৮) করেন। বর্তমানে লিজা আক্তারের মামুন (৬) ও মোমিন (৪) নামে দুইটি ছেলে রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে এক মেয়ের আলাদা সংসার রয়েছে। সম্প্রতি আজিজুল তার ৫০ শতক জমি বিক্রি করে তার প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের টাকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, বসতভিটার দশ শতক জমি তার ছেলেদের নামে লিখে দিতে হবে। কিন্তু আজিজুল দ্বিতীয় স্ত্রী লিজা ও তাদের সন্তানদের কোন জমি না দিয়ে বসতভিটাও বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝসড়া বিবাদ শুরু হয়। নিহত গৃহবধূর পরিবারের দাবি ভসতভিটার জমি নিয়ে কলহের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে ঝগড়া-ঝাটির এক পর্যায়ে আজিজুল, তার প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে আল আমিন ও আলামিনের শ^শুর আব্দুস সালাম তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। পওে তারা বাড়ির আঙ্গিনার এশটি আমগাছে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আজিজুলের ছয় বছরের ছেলে মামুন জানান, তার বাবা ও বড় ভাই আলামিনের শ^শুর তার মাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করেছে। এ সময় বালিশ ফেটে তুলা ঘওে ছড়িয়ে পরে।
মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘ আজিজুল তার ৫০ শতক জমি বিক্রি করে টাকা প্রথম স্ত্রীর তিন সন্তানকে দিয়ে দিয়েছে। তার সর্বশেষ বসতভিটার ১০ শতক জমিও বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। আমার বোন তাতে বাঁধা দেওয়ায় আমার বোনকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিয়ে বিচার শালিশও হয়েছে। সে পরিকল্পিতভাবে অন্যদের সহযোগিতায় আমার বোনকে হত্যা করেছে।
বোদা থানা পুলিশের ওসি একেএম নুরুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর লাশ উঠোনে পড়ে ছিল। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গৃহবধূর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর