,

একজন সফল ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরী

সরওয়ার জাহান, পীরগঞ্জ(রংপুর): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৮ নং রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী । তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দুলাল চৌধুরী নামেই পরিচিতি । ইউনিয়নবাসী এবার চতুর্থ বারের মতো তাকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে । দু’বার হজ্বব্রত পালনকারী দুলাল চৌধুরী ইউনিয়নবাসীর কাছে একজন সফল ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ সমাদৃত।
প্রথমবার ইউনিয়নের মেম্বর।তারপর চতুর্থবার ইউপি চেয়ারম্যান । তিনি যেবারে নিবার্বাচন করেছেন ,ইউনিয়নবাসী সেবারেই তাকে নিরঙ্কুশ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। এই দীর্ঘ সময় রায়পুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি জমি-জমা, মাইক্রোবাস হাসকিংমিল বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কল্যানে কাজ করেছেন এবং করছেন। গরিব মানুষের মেয়ের বিয়ে-সাদী, ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখার খরচ,ঘর-বাড়ী তৈরীতে আর্থিক সহায়তাপ্রদান, মসজিদ মন্দির ও ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইউনিয়নে গ্রমাীণ সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন, পানি নিস্কাশনে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মান করেছেন অসংখ্য। মাননীয় প্রধানমšী¿ শেখহাসিনা ও বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্য স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ইউনিয়নে গুরুত্বপুর্ণ গ্রামীন সড়ক পাকা হয়েছে । ইউনিয়নটিতে স্যানিটেশন কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। শিশু বা বাল্য বিয়ে নিরোধে জনসচতেনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচাররনা যেমন-আলোচনা সভা ,খুলি বৈঠক,মা সমাবেশ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমুহে শিক্ষকদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিশু বিবাহের কুফল সম্পর্কে কাউন্সিলিং করা এবং ইউনিয়নে একাধিক মা সমাবেশ ও পথসভায় জাতীয় সংসদের স্পীকার ও পীরগঞ্জ আসনের এমপি ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের গড়ে দেয়ার জন্য বাল্য বিয়ে নিরোধে সরকারের এ কার্যক্রমে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে মা-বাবাকে উদ্বুদ্ধ করে দেয়া বক্তব্য বাল্য বিয়ে নিরোধে অসামন্য অবদান রাখে।যে কারনে এই ইউনিয়নে এখন আর বাল্য বিয়ে হয় না।দুলাল চৌধুরীর সোডাপীরস্থ নিজস্ব অফিস রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে সারাদিন সময় দেয়ার পর রাতে বসেন এখানে ব্যবসায়িক কাজে। গত সোমবার রাতে এ কার্যালয়ে কথা হয় দুলাল চৌধুরীর সাথে। তিনি অকপটে জানান দীর্ঘ সময় ইউনিয়নটির নির্বাচিত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন কালে তাঁর সফলতা- বিফলতার কথা। সফলতার কথা বলতে গিয়ে অল্প কথায় তিনি বলেন, তাঁর কর্মের ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাঁকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছে। যে কারনে প্রতিটি নির্বাচনে জনগন তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে। ১৯৮৩ সালে এইস,এস,সি পাশের পর প্রথম ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বর পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাাচিত হন। এরপর ১৯৯০ সালে তদানিন্তন ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর বড় ভাই মতিয়ার রহমান চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারনে পদত্যাগ করলে চেয়ারম্যান পদে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জনগন তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় হয়নি। ১৯৯৮ ও ২০০৩ এবং বর্তমান ২০১৭ ইং সালের নির্বাচনে জনগন আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। ২০১১ইং সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় জনগণ আমার বাড়ীতে এসে কান্নাকাটি করেছে, কেউকেউ বকা দিয়ে ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফিরেগেছে। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম মানুষ আমাকে তাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছে।নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সাধারণ মানুষকে আমি কষ্ট দিয়েছি।২০১৭ সালের নির্বাচন। আমি পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি।ভোট হচ্ছে দলীয় মনোনয়নে।আওয়ামীলীগ থেকে আমি মনোনয়ন পাইনি।সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবারও নির্বাচন করবনা। দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে কাজ করার। কিন্তু ২০১১ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সেবা বি ত ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা আমার বাড়ীতে ভিড় করতে থাকে।এক পর্যায়ে তারা আমার বাড়ীর আঙ্গিনায় অবস্থন নিয়ে ঘোষনা দেয়, আমি নির্বাচন না করলে তারা বাড়ী ফিরে যাবে না। জনগনের চাপে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে বাধ্য হই। নির্বাচনে জনগন আমাকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। বিফলতা বলতে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় জন প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে সাধারণ মানুষের কল্যান করতে গিয়ে পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত আবাদী জমির মধ্যে সাড়ে ১০ একর জমি, উপজেলা সদরের মূল্যবান ২৭ শতক জসিসহ ৪ টি হাসকিং মিল চাতাল, ২টি মিনিবাস বিক্রি করেছেন। যার ১ টাকাও পরিবারের জন্য ব্যয় করেননি। ভালবাসা সমর্থন পেয়েছেন সাধারণ মানুষের ।দুলাল চৌধুরী বলেন, ছাত্ররাজনীতি করেননি তিনি। ভোটার হবার পর থেকে জাতীয় ভোট দিয়েছেন নৌকায় । ১৯৯৬ এর নির্বাচনে নৌকার কাজ করেছেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পীরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি রায়পুর ইউনিয়নে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে ওই নির্বাচনে ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে রায়পুর ইউনিয়নে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করে। তখন থেকেই তিনি সক্রীয়ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। ফলশ্র“তিতে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি পদলাভ করেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ ইউনিয়নে নিরঙ্কুশ ভোটে জয়লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি। দুলাল চৌধুরী বর্নিত ইউনিয়নের ধুলগাড়ী গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলীম পরিবারের চৌধুরী বাড়ির আব্দুল কাদের চৌধুরীর ছেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর