গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১০

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। উপত্যকাটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের একটি বাড়িতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালালে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

এছাড়া হামলার পর থেকে অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। রোববার (১০ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রোববার সকালে খান ইউনিসের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ডজন খানেক আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফা।

হামলার পর খান ইউনিসের পশ্চিমে ধ্বংসস্তূপের নিচে অজ্ঞাত সংখ্যক লোক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছে বার্তাসংস্থাটি।

আল জাজিরা বলছে, উত্তর গাজায় যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন খান ইউনিস শহরে। আর সেখানেই এখন নিরলস হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় হামাস-সংশ্লিষ্ট ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সামরিক বাহিনী আরও বলেছে, তারা খান ইউনিসের টানেল শ্যাফটে ‘নির্ভুল অস্ত্র’ দিয়ে আক্রমণ করেছে।

এছাড়া ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের একটি দলকে চিহ্নিত করে ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করেছে বলেও ইসরায়েল দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন  বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভাবছে না যুক্তরাষ্ট্র

মাঝে হামাসের সাথে এক সপ্তাহব্যাপী মানবিক বিরতির পর গত সপ্তাহ থেকে গাজা উপত্যকায় পুনরায় বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরায়েল। বিরতির পর শুরু হওয়া এই অভিযানে গাজায় হামলা আরও তীব্র করেছে দখলদার সেনারা।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে সেখানে কমপক্ষে ১৭ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪৬ হাজার মানুষ বেশি আহত হয়েছেন।

নিহত এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কমপক্ষে ৭ হাজার ১১২ জন শিশু এবং ৪ হাজার ৮৮৫ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া ভূখণ্ডটিতে এখনও প্রায় ৭ হাজার ৬০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *