গাজার হাসপাতালে কেবল লাশ আর লাশ

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর সোমবার (৪ ডিসেম্বর) টানা চতুর্থদিনের মতো গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নতুন করে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকেই হাসপাতালগুলোতে আসা শুরু করে মরদেহ।

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুর্স কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘মরদেহের প্রবাহে আমাদের হাসপাতগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। আমাদের হাসপাতালগুলো আহতদের আর কোনো চিকিৎসা দিতে পারছে না। ইসরায়েলের দখলদার সেনাদের দ্বারা আমাদের সব চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।’

তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাবে।

গাজার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আল-আওদা হাসপাতালে আহত ব্যক্তিকে নিয়ে আসার সময় এক স্বাস্থ্যকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েলিদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। যার মধ্যে মাত্র ৪০০ জন দক্ষিণ দিকের রাফাহ অঞ্চলে পৌঁছাতে পেরেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘এটি একটি যুদ্ধরত খুনি শত্রু; তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি: ঠাণ্ডা মাথায় বেসামরিকদের হত্যা করা।’

গত ২৪ নভেম্বর থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরবর্তী সাতদিন যুদ্ধবিরতি চলে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই গাজার উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলসহ— সবদিকে নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।

সূত্র: আলজাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *