বিদেশিদের বিতাড়নের ষড়যন্ত্র ফাঁসের পর জার্মানিতে তুমুল বিক্ষোভ

বিদেশিদের বিতাড়নে জার্মানির চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এএফডির গোপন এক ষড়যন্ত্রের রূপরেখা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দেশটির তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এই দলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

জার্মানির চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এএফডি। দেশটিতে চালানো জনমত সমীক্ষায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। বিদেশিদের জার্মানি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার গোপন চক্রান্ত করায় দেশটিতে দলটি আগামী নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্য পেতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। অন্যদিকে, প্রবল শীত সত্ত্বেও দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এই দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করছেন।

গত কয়েক দিন ধরে জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন লাখ লাখ মানুষ। কেবল শুক্রবার ও রোববারের মধ্যে প্রায় একশ জায়গায় এএফডি-বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, সব মিলিয়ে ১৪ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

রোববার মিউনিখ শহরে প্রায় এক লাখ মানুষ এএফডির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে উপস্থিত হন। পরে নিরাপত্তা বিবেচনায় আয়োজকদের শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ বাতিল করতে হয়েছে। বার্লিনেও রোববার সন্ধ্যায় প্রায় এক লাখ মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন।

গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত এক সংবাদের সূত্র ধরে জার্মানিজুড়ে এএফডির বিরুদ্ধে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলটির কিছু সদস্য সমমনা উগ্র ডানপন্থী ব্যক্তিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জার্মানি থেকে বিদেশিদের বিতাড়নে এক ষড়যন্ত্রের রূপরেখা রচনা করেছিলেন বলে ‘কারেক্টিভ’ নামের এক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের তিনটি রাজ্যের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ভোটারদের সামনে এএফডির ‘প্রকৃত চরিত্র’ তুলে ধরতে আয়োজকরা দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করছেন।

আরো পড়ুন  গাজায় একদিনে ১০৯ জন নিহত

বিশেষ করে যে সব মানুষ শুধু প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এএফডিকে সমর্থন করছেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে তাদের মতবদলের আশা করা হচ্ছে। একাধিক রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ফুটবল ব্যক্তিত্ব চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে জনগণকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিপুল জনসমর্থন ধরে রাখতে পারলে দেশটির পূর্বের স্যাক্সনি ও টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের নির্বাচনে এএফডি দল এমনকি ক্ষমতায় আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আগামী বছর ফেডারেল নির্বাচনের আগে ক্ষমতার স্বাদ পেতে পারে। আর এর ফলে দলটির দেশের বাকি অংশেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সমর্থন পেয়ে আগামী সংসদে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলটির বিরুদ্ধে আইনি পথে নানা রকম পদক্ষেপের প্রস্তাব উঠেছে। দেশিটিতে এএফডি কিংবা দলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ বা কয়েকজন নেতার অধিকার খর্ব করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক চলছে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, দলটিকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে তুলে ধরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাদের মতে, বরং রাজনৈতিক আঙিনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলের প্রকৃত অ্যাজেন্ডা তুলে ধরে প্রতিবাদী ভোটারদের মনে এএফডি সম্পর্কে সংশয় জাগিয়ে তোলাই সঠিক পথ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *