আজ ১৬তম আয়কর দিবস

দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে আয়কর দিয়ে জনগণকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর আয়কর দিবস উদযাপন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০০৮ সাল থেকে প্রথম আয়কর দিবস পালন করা হয়। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১৫ বছর। আজ (৩০ নভেম্বর) ১৬তম জাতীয় আয়কর দিবস। জাতীয় আয়কর দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘কর দেব গড়ব দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে দিবসটি উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

যদিও ২০০৮ সাল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস হিসেবে উদযাপিত হতো। এরপর ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পালন করছে এনবিআর। এদিন ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ারও শেষ দিন। যদিও বিশেষ বিবেচনায় আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় দুই মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪ অনুযায়ী ৪৪ ধরনের সেবায় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কারণে রিটার্ন দাখিলের বিকল্প নেই ই-টিআইএনধারীদের। তা না হলে পড়তে নানা জটিলতায়।

আয়কর দিবসটি উপলক্ষে সব আয়কর অফিস সজ্জিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এরপর বেলা ১১টায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ‘নুতন আয়কর আইন এবং কর পরিপালন: পরিবর্তিত প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করবেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় আয়কর দিবসে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিশেষ আয়োজন রেখেছে।

আরো পড়ুন  বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি নির্বাপক না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

দেশে বর্তমানে ৯৪ লাখের বেশি কর শনাক্তকারী নম্বরধারী (টিআইএন) করদাতা রয়েছে। গত অর্থ বছরে ৩৫ লাখ ২৯ হাজার রিটার্ন দাখিল করা হয়েছিল।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি-করদাতার আয় যদি বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি হয়, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে চার লাখ টাকার বেশি হয়, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হয় এবং প্রতিবন্ধী করদাতার আয় সাড়ে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হলে তার রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া আরও অনেক কারণে ব্যক্তিকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। চলতি অর্থবছর থেকে শুধু রিটার্ন দাখিল করলেই হবে না, বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে হলে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও দেখাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *