নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাতে হবে। ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে কি কি উল্লেখ করতে হবে সে বিষয়েও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (২৬ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্র-৪ এর মাধ্যমে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসি জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি জারি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য এ পরিপত্রে উল্লিখিত কাজগুলো প্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী দাখিল : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৪৪কক অনুচ্ছেদ এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর ২৯ বিধি অনুসারে প্রত্যেক প্রার্থী ‘ফরম ২০’ এ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণীতে, নিজ আয় হতে যে অর্থের সংস্থান করা হবে এবং উক্ত আয়ের উৎস থাকতে হবে; নিজ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করা বা তাদের স্বেচ্ছায় প্রদত্ত দান বাবদ প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থ এবং তাদের আয়ের উৎস; কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করা বা স্বেচ্ছায় প্রদত্ত দান বাবদ প্রাপ্ত অর্থ; কোনো প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল অথবা অন্য কোনো সংস্থা হতে স্বেচ্ছা প্রদত্ত দান বাবদ প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থ; অন্য কোনো উৎস থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের উৎস জানাতে হবে। ৪৪কক (১) অনুচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট দফায় “আত্মীয়-স্বজন” বলতে স্বামী, স্ত্রী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই এবং বোন বুঝাবে জানিয়েছে ইসি।
প্রার্থীর সম্পদ ও দায় এর বিবরণী এবং তার বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল : আদেশের ৪৪কক অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুসারে তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে তার সম্পদ ও দায় এর বিবরণী এবং তার বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী নির্ধারিত ‘ফরম-২১’ এ মনোনয়নপত্রের সাথে সংযুক্ত করে দাখিল করতে হবে এবং তার সর্বশেষ দাখিল করা আয়কর রিটার্নের অনুলিপিও বিবরণীর সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী এবং সম্পদ দায়ের বিবরণী ও রিটার্নের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ : ৪৪কক অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী, সম্পদ ও দায়ের বিবরণী এবং বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণীও সর্বশেষ দাখিল করা রিটার্নের কপি রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করার সাথে সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে উল্লিখিত বিবরণী এবং রিটার্নের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছে দিতে হবে।
সম্পূরক বিবরণী দাখিল : ৪৪কক অনুচ্ছেদের (৪) দফা অনুসারে দাখিলকৃত ‘ফরম-২০’ এ বিবরণীতে বর্ণিত উৎস ব্যতিরেকে অন্য কোনো উৎস হতে অর্থ প্রাপ্ত হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী রিটার্নের সাথে অর্থ এবং যে উৎস হতে অর্থ প্রাপ্ত হয়েছেন তা উল্লেখপূর্বক একটি সম্পূরক বিবরণী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। সম্পূরক বিবরণী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়ার সাথে সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সম্পূরক বিবরণীর অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের বরাবরেও দিতে হবে।
নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্ভাব্য উৎস এবং নির্বাচনী ব্যয় সংক্রান্ত বিধানাবলি লঙ্ঘনের অপরাধ ও শাস্তি : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৪৪কক অনুচ্ছেদের অধীন প্রার্থী কর্তৃক দাখিল করা বিবরণী বা সম্পূরক বিবরণীতে উল্লিখিত উৎস ব্যতীত অন্য কোনো উৎস হতে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৪৪খ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কতিপয় বিধান যেমন নির্বাচনী এজেন্ট ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে অর্থ খরচ, নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম ইত্যাদি বিধান লঙ্ঘন করলে আদেশের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংগঠিত হবে। অপরপক্ষে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪খ অনুচ্ছেদের (এক) ও (৩খ) দফার কোনো বিধান লঙ্ঘনপূর্বক ব্যবহৃত কোনো অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কর্তৃক কৃত (৩) দফায় উল্লিখিত পরিমাণের অধিক নির্বাচনি খরচ বলে গণ্য হবে এবং তা অনুচ্ছেদ ৪৪খ এর লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৪৪কক বা ৪৪গ এর বিধানাবলি পালন করতে ব্যর্থ হলে অর্থাৎ নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল না করলে অথবা নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে না করলে বা এ সংক্রান্ত নিয়মাবলি পরিপালন না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।
সম্ভাব্য ব্যয়ের উৎসসহ বিভিন্ন বিবরণী ও রিটার্ন জমা না দেওয়া বা এ সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৪৪কক অনুচ্ছেদের অধীন দাখিল করা বিবরণীতে বর্ণিত উৎস ব্যতীত অন্য কোনো উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করলে বা ৪৪খ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিধান যেমন-নির্বাচনী এজেন্ট ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে অর্থ খরচ করা, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা অতিক্রম বা কতিপয় নিষিদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণ করলে অন্যূন ২ বছর ও অনধিক ৭ বছরের কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। অন্যদিকে, আদেশের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী ও ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল না করলে অথবা এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান পরিপালন না করলে দুর্নীতিমূলক অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এর জন্য অন্যূন ২ বছর ও অনধিক ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
নিষিদ্ধ কার্যক্রম প্রতিকারের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার করণীয় : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৭ক এর দফা (১) অনুসারে যেকোনো পুলিশ কর্মকর্তা অথবা নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যেকোনো সদস্য যখনই বা যেখানে তিনি এতদসম্পর্কে জানিতে পারেন বা তার নজরে আসে তখন এবং সেখানেই অপসারণ করবেন বা অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দেবেন। (ক) একের অধিক রং বা কালি দ্বারা প্রস্তুত প্রার্থীর প্রতিকৃতি বা প্রতীকের ব্যবহার অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত বা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত আকার অপেক্ষা বৃহত্তর আকারের পোস্টার বা প্রতীক; (খ) প্রার্থী কর্তৃক কোন গেট বা তোরণ অথবা কোসো ঘেরা (প্রতিবন্ধক); (গ) ৪০০ বর্গফুট এর অধিক স্থান নিয়ে কোনো প্যান্ডেল; (ঘ) কোনো প্রার্থী কর্তৃক নির্বাচনী এলাকায় একই সময়ে ৩ এর অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা; (ঙ) কোনো নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক বা পৌর এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *