রংপুরের মিঠাপুকুরে আমন চাষের ভরা মৌসুমে সারের জন্য ডিলার পয়েন্টগুলোতে কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে অনেক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষকদের দাবি, বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সংকটের বিষয়টি স্রেফ ‘গুজব’।
সরেজমিনে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাট ও ফকিরহাট এলাকার ডিলার পয়েন্টগুলোতে দেখা যায়, সারের জন্য শত শত কৃষক দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। শুকুরের হাটের এনবি ট্রেডিংয়ে আসা কৃষক দেলোয়ার হোসেন ও রুহুল আমিন বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সারের দেখা নেই। ডিলাররা বলছেন সার নেই।’
ময়েনপুর ইউনিয়নের কৃষক ইয়াছিন আলী ও রোকনুজ্জামান গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘দিনের বেলা কৃষকদের সার দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু সন্ধ্যার পর গোপনে ভ্যানে করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে সার পাচার করা হচ্ছে।’ ফকিরহাট অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা খালি হাতে ফিরছেন।
শুকুরের হাট এলাকার বিসিআইসি ডিলার কোরবান আলী কিনু নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ চাহিদার চেয়ে অনেক কম। কৃষকদের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে বেশি দামে সার আনতে হয়, তাই অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি নিতে হয়।’ এদিকে ফকিরহাট ডিলার পয়েন্টে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সমবায় সমিতির কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, সেখানে নিয়মিত ম্যানেজার না থাকায় একজন সাধারণ কর্মচারী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, ফলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তবে সংকটের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে। সংকটের খবরটি স্রেফ গুজব। যেহেতু এখন সব কৃষক একসঙ্গে জমিতে সার দিচ্ছেন, তাই ডিলার পয়েন্টে কিছুটা ভিড় বা চাপ তৈরি হয়েছে। সবাই সার পাবেন, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
কৃষকরা বলছেন, ফসল রক্ষায় সময়মতো সার পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের তদারকি করার জন্য তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
রংপুরের মিঠাপুকুরে আমন চাষের ভরা মৌসুমে সারের জন্য ডিলার পয়েন্টগুলোতে কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে অনেক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষকদের দাবি, বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সংকটের বিষয়টি স্রেফ ‘গুজব’।
সরেজমিনে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাট ও ফকিরহাট এলাকার ডিলার পয়েন্টগুলোতে দেখা যায়, সারের জন্য শত শত কৃষক দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। শুকুরের হাটের এনবি ট্রেডিংয়ে আসা কৃষক দেলোয়ার হোসেন ও রুহুল আমিন বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সারের দেখা নেই। ডিলাররা বলছেন সার নেই।’
ময়েনপুর ইউনিয়নের কৃষক ইয়াছিন আলী ও রোকনুজ্জামান গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘দিনের বেলা কৃষকদের সার দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু সন্ধ্যার পর গোপনে ভ্যানে করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে সার পাচার করা হচ্ছে।’ ফকিরহাট অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা খালি হাতে ফিরছেন।
শুকুরের হাট এলাকার বিসিআইসি ডিলার কোরবান আলী কিনু নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ চাহিদার চেয়ে অনেক কম। কৃষকদের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে বেশি দামে সার আনতে হয়, তাই অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি নিতে হয়।’ এদিকে ফকিরহাট ডিলার পয়েন্টে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সমবায় সমিতির কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, সেখানে নিয়মিত ম্যানেজার না থাকায় একজন সাধারণ কর্মচারী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, ফলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তবে সংকটের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে। সংকটের খবরটি স্রেফ গুজব। যেহেতু এখন সব কৃষক একসঙ্গে জমিতে সার দিচ্ছেন, তাই ডিলার পয়েন্টে কিছুটা ভিড় বা চাপ তৈরি হয়েছে। সবাই সার পাবেন, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
কৃষকরা বলছেন, ফসল রক্ষায় সময়মতো সার পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের তদারকি করার জন্য তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন