সুন্দরবন কেবল বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনই নয়, এটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। অথচ এই বনের প্রশাসনিক ইতিহাস ও আভিজাত্যের অন্যতম দুই সাক্ষী–শতবর্ষী জলযান ‘এম এল বনরানী’ ও ‘এম এল বনকন্যা’কে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে বন বিভাগ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা না করে এই প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ দুটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মাত্র ৪৭ লাখ ২২ হাজার ১০০ টাকায় জলযান দুটি বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ মার্চ ‘এম এল বনরানী’ ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকায় এবং ১১ মে ‘এম এল বনকন্যা’ ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়। সবুর মেম্বর নামের এক ঠিকাদার জাহাজ দুটি কিনে নিয়েছেন। বর্তমানে জলযান দুটি খুলনার চানমারী ও ফরেস্ট ঘাট এলাকায় রাখা হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বিলাসবহুল জলযান দুটির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯০২ সালে প্রায় ৩৮ হাজার টাকায় কলকাতার খিদিরপুর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হয় ‘এম এল বনকন্যা’। আর ১৯০৮ সালে ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকায় তৈরি করা হয় ‘বনরানী’। তৎকালীন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সুন্দরবন ভ্রমণের সময় এই জাহাজ দুটি ব্যবহার করতেন।
জাহাজ দুটির সাবেক চালক ও লস্কররা জানান, বার্মিজ সেগুন কাঠের নান্দনিক কারুকাজ ছিল এই জলযান দুটির প্রধান আকর্ষণ। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এগুলো সচল ছিল। পরে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে এগুলো সচল করতে ৭ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র প্রধান সমন্বয়কারী নূর আলম শেখ বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই নিদর্শন বিক্রির আগে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া উচিত ছিল। এগুলো সংস্কার করে জাদুঘর বা পর্যটনকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা যেত। আমরা নিলাম বাতিল করে এগুলো ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ১০০ বছরের বেশি পুরনো এই জলযান দুটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অনেক। অন্যদিকে, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, সরকারি সিদ্ধান্তেই এগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাহাজ দুটির রেপ্লিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
সুন্দরবন কেবল বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনই নয়, এটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। অথচ এই বনের প্রশাসনিক ইতিহাস ও আভিজাত্যের অন্যতম দুই সাক্ষী–শতবর্ষী জলযান ‘এম এল বনরানী’ ও ‘এম এল বনকন্যা’কে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে বন বিভাগ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা না করে এই প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ দুটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মাত্র ৪৭ লাখ ২২ হাজার ১০০ টাকায় জলযান দুটি বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ মার্চ ‘এম এল বনরানী’ ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকায় এবং ১১ মে ‘এম এল বনকন্যা’ ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়। সবুর মেম্বর নামের এক ঠিকাদার জাহাজ দুটি কিনে নিয়েছেন। বর্তমানে জলযান দুটি খুলনার চানমারী ও ফরেস্ট ঘাট এলাকায় রাখা হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বিলাসবহুল জলযান দুটির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯০২ সালে প্রায় ৩৮ হাজার টাকায় কলকাতার খিদিরপুর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হয় ‘এম এল বনকন্যা’। আর ১৯০৮ সালে ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকায় তৈরি করা হয় ‘বনরানী’। তৎকালীন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সুন্দরবন ভ্রমণের সময় এই জাহাজ দুটি ব্যবহার করতেন।
জাহাজ দুটির সাবেক চালক ও লস্কররা জানান, বার্মিজ সেগুন কাঠের নান্দনিক কারুকাজ ছিল এই জলযান দুটির প্রধান আকর্ষণ। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এগুলো সচল ছিল। পরে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে এগুলো সচল করতে ৭ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র প্রধান সমন্বয়কারী নূর আলম শেখ বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই নিদর্শন বিক্রির আগে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া উচিত ছিল। এগুলো সংস্কার করে জাদুঘর বা পর্যটনকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা যেত। আমরা নিলাম বাতিল করে এগুলো ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ১০০ বছরের বেশি পুরনো এই জলযান দুটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অনেক। অন্যদিকে, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, সরকারি সিদ্ধান্তেই এগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাহাজ দুটির রেপ্লিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

আপনার মতামত লিখুন