সংবাদ

সাড়ে ৫ বছর বন্ধ ছিল হামের ক্যাম্পেইন

টিকা সংকটে শিশুদের প্রাণঝুঁকির জন্য দায়ীদের দুষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী


প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

টিকা সংকটে শিশুদের প্রাণঝুঁকির জন্য দায়ীদের দুষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • গত সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে টিকার মজুত শূন্য
  • এখন জরুরি ভিত্তিতে চলছে উদ্ধার তৎপরতা

দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং টিকার তীব্র সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর চরম অব্যবস্থাপনা অদূরদর্শী সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি জানান, গত সাড়ে পাঁচ বছর দেশে হাম-রুবেলা টিকার কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত টিকা মজুত না রাখায় আজ শিশুরা প্রাণঝুঁকিতে পড়েছে। এই সংকট কাটাতে বর্তমান সরকার এপ্রিল থেকে সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রংপুর- আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। আক্তার হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব, আইসোলেশন আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর যাবৎ তা হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যেই হামের প্রাদুর্ভাব বেশি। এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহ সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, যার ফলে হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।"

জরুরি পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। মাস থেকে বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যার সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু হবে।"

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআরবির উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আক্তার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, করোনার সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকার ঘাটতি রোধে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


টিকা সংকটে শিশুদের প্রাণঝুঁকির জন্য দায়ীদের দুষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • গত সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে টিকার মজুত শূন্য
  • এখন জরুরি ভিত্তিতে চলছে উদ্ধার তৎপরতা

দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং টিকার তীব্র সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর চরম অব্যবস্থাপনা অদূরদর্শী সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি জানান, গত সাড়ে পাঁচ বছর দেশে হাম-রুবেলা টিকার কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত টিকা মজুত না রাখায় আজ শিশুরা প্রাণঝুঁকিতে পড়েছে। এই সংকট কাটাতে বর্তমান সরকার এপ্রিল থেকে সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রংপুর- আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। আক্তার হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব, আইসোলেশন আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর যাবৎ তা হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যেই হামের প্রাদুর্ভাব বেশি। এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহ সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, যার ফলে হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।"

জরুরি পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। মাস থেকে বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যার সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু হবে।"

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআরবির উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আক্তার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, করোনার সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকার ঘাটতি রোধে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত