সংবাদ

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

মানবাধিকার কমিশন এখন বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

মানবাধিকার কমিশন এখন বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার

জাতীয় সংসদেজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন কুমিল্লা- আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিলটি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি বর্তমান মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে মূলত বিরোধী দল ভিন্নমত দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালের পুরনো আইনটি নতুন করে ফিরিয়ে আনা হলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন।

মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করাজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫বাতিল করে পুরনোজাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ফিরিয়ে আনতেই এই নতুন বিল আনা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকেপশ্চাৎমুখী পদক্ষেপহিসেবে আখ্যায়িত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরনো আইনে ফিরে যাওয়া জাতি পিছিয়ে পড়ার একটিটেক্সটবুক এক্সাম্পলহয়ে থাকবে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের বাছাই করার জন্য যে ছয় সদস্যের কমিটি রাখা হয়েছে, তার অধিকাংশ সদস্যই সরকারপক্ষের। ফলে এই কমিশন যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং শুরু থেকেই এর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। কমিটির এই কাঠামোর কারণে কমিশন কার্যত সরকারের একটি অঙ্গে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্তে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেখানে খোদ সরকার বা রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে কখনো নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। এই আইনটি কার্যকর হলে অপরাধীরা আইনি ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

তিনি এই বিলটি পুনর্বিবেচনা করার এবং মানবাধিকার কমিশনকে সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


মানবাধিকার কমিশন এখন বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদেজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন কুমিল্লা- আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিলটি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি বর্তমান মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে মূলত বিরোধী দল ভিন্নমত দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালের পুরনো আইনটি নতুন করে ফিরিয়ে আনা হলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন।

মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করাজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫বাতিল করে পুরনোজাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ফিরিয়ে আনতেই এই নতুন বিল আনা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকেপশ্চাৎমুখী পদক্ষেপহিসেবে আখ্যায়িত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরনো আইনে ফিরে যাওয়া জাতি পিছিয়ে পড়ার একটিটেক্সটবুক এক্সাম্পলহয়ে থাকবে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের বাছাই করার জন্য যে ছয় সদস্যের কমিটি রাখা হয়েছে, তার অধিকাংশ সদস্যই সরকারপক্ষের। ফলে এই কমিশন যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং শুরু থেকেই এর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। কমিটির এই কাঠামোর কারণে কমিশন কার্যত সরকারের একটি অঙ্গে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্তে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেখানে খোদ সরকার বা রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে কখনো নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। এই আইনটি কার্যকর হলে অপরাধীরা আইনি ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

তিনি এই বিলটি পুনর্বিবেচনা করার এবং মানবাধিকার কমিশনকে সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত