সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় রহিতসহ ১২ বিল পাস


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় রহিতসহ ১২ বিল পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে আইনপ্রনয়ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণসহ মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। সংসদীয় কার্যক্রমের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিচার বিভাগ প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত বিলগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ৯টি অধ্যাদেশকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অবিকল রেখে বিলে রূপান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করা হয়। বিশেষ করেজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪রহিত করে ২০০৯ সালের মূল আইনটি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যেজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোটি আগের অবস্থানে ফিরে গেলো।

সংসদের অধিবেশনে পাস হওয়া অন্যান্য বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল।

এছাড়াও জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল এবং সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল পাস হয়। বৈদেশিক কর্মসংস্থান অভিবাসী সংশোধন বিল এবং শ্রম সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে শ্রমিক প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন বিল এবং সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে আইনগত সহায়তা প্রদান সংশোধন বিলটিও আজ অনুমোদন পেয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বিল দুটি।সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫এবংসুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬পাসের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫পাসের মাধ্যমে এখন থেকে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ থাকলেও, এখন নির্ধারিত যোগ্যতা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এটি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬পাসের ফলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় থাকার যে ব্যবস্থাটি ছিল, তা বিলুপ্ত বা সংস্কার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাজগুলো সরাসরি বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনা বা নির্বাহী বিভাগের সাথে সমন্বয় করে নতুন কোনো কাঠামোর অধীনে পরিচালনার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং একে একটি শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে যখন একটি সুনির্দিষ্ট আইন থাকে, তখন সেখানে মেধার মূল্যায়ন বেশি হয়, যা পুরো দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে দেয়।

বিলগুলো পাসের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানান, রাষ্ট্রীয় কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আইনি জটিলতা নিরসনে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিলো। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিলগুলো পাসের পর এখন তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ পেলো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় রহিতসহ ১২ বিল পাস

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে আইনপ্রনয়ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণসহ মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। সংসদীয় কার্যক্রমের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিচার বিভাগ প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত বিলগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ৯টি অধ্যাদেশকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অবিকল রেখে বিলে রূপান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করা হয়। বিশেষ করেজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪রহিত করে ২০০৯ সালের মূল আইনটি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যেজাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোটি আগের অবস্থানে ফিরে গেলো।

সংসদের অধিবেশনে পাস হওয়া অন্যান্য বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল।

এছাড়াও জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল এবং সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল পাস হয়। বৈদেশিক কর্মসংস্থান অভিবাসী সংশোধন বিল এবং শ্রম সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে শ্রমিক প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন বিল এবং সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে আইনগত সহায়তা প্রদান সংশোধন বিলটিও আজ অনুমোদন পেয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বিল দুটি।সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫এবংসুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬পাসের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫পাসের মাধ্যমে এখন থেকে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ থাকলেও, এখন নির্ধারিত যোগ্যতা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এটি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬পাসের ফলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় থাকার যে ব্যবস্থাটি ছিল, তা বিলুপ্ত বা সংস্কার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাজগুলো সরাসরি বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনা বা নির্বাহী বিভাগের সাথে সমন্বয় করে নতুন কোনো কাঠামোর অধীনে পরিচালনার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং একে একটি শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে যখন একটি সুনির্দিষ্ট আইন থাকে, তখন সেখানে মেধার মূল্যায়ন বেশি হয়, যা পুরো দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে দেয়।

বিলগুলো পাসের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানান, রাষ্ট্রীয় কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আইনি জটিলতা নিরসনে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিলো। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিলগুলো পাসের পর এখন তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ পেলো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত