সংবাদ

চোখে রুমাল, জ্ঞান হারানো, দৌড়ে মুক্তি! স্কুলছাত্রীর অবিশ্বাস্য কাণ্ড


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

চোখে রুমাল, জ্ঞান হারানো, দৌড়ে মুক্তি! স্কুলছাত্রীর অবিশ্বাস্য কাণ্ড
বাবা মোরশেদুল আলমের সঙ্গে দারুণ সাহসী তাহরিম তাওবা। ছবি: প্রতিনিধি

কালি শেষ হয়ে গিয়েছিল। কলম কিনতে বের হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট তাহরিম। কিন্তু কলমের বদলে অপেক্ষা করছিল এক মাইক্রোবাস। যাত্রা হয়েছিল অজানা এক পরিত্যক্ত বাড়ির দিকে।

চোখে রুমাল, জ্ঞান হারানো- সবকিছু মিলে যেন একটি থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য। তবে শেষরক্ষা হয়েছিল তাহরিমের অকুতোভয় বুদ্ধিমত্তায়।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নওগাঁ শহরের কেডির মোড় এলাকার পাঠশালা স্টাডি কেয়ার একাডেমি নামক একটি কোচিং সেন্টারের সামনে। 

তাহরিম তাওবা শহরের খাস-নওগাঁ এলাকার মোরশেদুল আলমের মেয়ে। পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাতটায় বাবা তাকে কোচিংয়ে রেখে যান। সকাল নয়টায় মেয়েকে নিতে গেলে কোচিংয়ে আর পাননি তিনি। শিক্ষকরা জানান, কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে তাহরিম। কিন্তু তাহরিমের কলম কেনা হয়নি। বদলে হয়েছিল অন্ধকার এক অভিযান।

আহত কণ্ঠে তাহরিম জানায়, “কলম কিনতে বাইরে যাই। তখন হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায়। এক লোক বের হয়। খাটো করে মাথায় কিছুটা টাক ছিলো। পেছন থেকে কয়েকজন এসে আমার চোখে রুমাল বাঁধে। গাড়িতে তুলে নেয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”

জ্ঞান ফিরে পায় পরিত্যক্ত এক বাড়িতে। “জানালা দরজা কিছুই ছিল না। লোকটা ফোনে কথা বলতে বলতে উপরে চলে যায়। আমি জুতা হাতে নিয়ে দৌড় দেই। অনেক দৌড়ানোর পর একটি বাড়ির গেট খোলা পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়ি।”

দয়ালের মোড়ের ওই বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, তার মেয়ে ফোন করে জানায়, অচেনা একটি মেয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বাড়িতে এসে দেখেন, তাহরিম ভয়ে কাঁপছে। “আমাকে দেখে সে আরও ভয় পায়। পরে স্বাভাবিক হলে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে কল করি।”এরপর বাবা মোরশেদুল আলম এসে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান।

তাহরিম তওবার স্কুল। ছবি: প্রতিনিধি

শিশুটির বাবা মোরশেদুল আলম বলেন, “কোচিংয়ের শিক্ষক বললেন কলম কিনতে গেছে। এরপর আর ফিরেনি। হাসপাতালেও খুঁজেছি। এক পর্যায়ে ফোন পাই। জানতে পারি মেয়ে দয়ালের মোড়ের একটি বাসায় আছে।”

তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “কী কারণে আমার মেয়েকে অপহরণ করা হলো? আমার আরও দুটি সন্তান আছে। তাদের নিরাপত্তা দেবে কে?”

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত চলছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকে যায়- কারা এই অপহরণকারী? কেন পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে অপহরণের চেষ্টা? পর্দার আড়ালে কে বা কারা?

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


চোখে রুমাল, জ্ঞান হারানো, দৌড়ে মুক্তি! স্কুলছাত্রীর অবিশ্বাস্য কাণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কালি শেষ হয়ে গিয়েছিল। কলম কিনতে বের হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট তাহরিম। কিন্তু কলমের বদলে অপেক্ষা করছিল এক মাইক্রোবাস। যাত্রা হয়েছিল অজানা এক পরিত্যক্ত বাড়ির দিকে।

চোখে রুমাল, জ্ঞান হারানো- সবকিছু মিলে যেন একটি থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য। তবে শেষরক্ষা হয়েছিল তাহরিমের অকুতোভয় বুদ্ধিমত্তায়।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নওগাঁ শহরের কেডির মোড় এলাকার পাঠশালা স্টাডি কেয়ার একাডেমি নামক একটি কোচিং সেন্টারের সামনে। 

তাহরিম তাওবা শহরের খাস-নওগাঁ এলাকার মোরশেদুল আলমের মেয়ে। পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাতটায় বাবা তাকে কোচিংয়ে রেখে যান। সকাল নয়টায় মেয়েকে নিতে গেলে কোচিংয়ে আর পাননি তিনি। শিক্ষকরা জানান, কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে তাহরিম। কিন্তু তাহরিমের কলম কেনা হয়নি। বদলে হয়েছিল অন্ধকার এক অভিযান।

আহত কণ্ঠে তাহরিম জানায়, “কলম কিনতে বাইরে যাই। তখন হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায়। এক লোক বের হয়। খাটো করে মাথায় কিছুটা টাক ছিলো। পেছন থেকে কয়েকজন এসে আমার চোখে রুমাল বাঁধে। গাড়িতে তুলে নেয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”

জ্ঞান ফিরে পায় পরিত্যক্ত এক বাড়িতে। “জানালা দরজা কিছুই ছিল না। লোকটা ফোনে কথা বলতে বলতে উপরে চলে যায়। আমি জুতা হাতে নিয়ে দৌড় দেই। অনেক দৌড়ানোর পর একটি বাড়ির গেট খোলা পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়ি।”

দয়ালের মোড়ের ওই বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, তার মেয়ে ফোন করে জানায়, অচেনা একটি মেয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বাড়িতে এসে দেখেন, তাহরিম ভয়ে কাঁপছে। “আমাকে দেখে সে আরও ভয় পায়। পরে স্বাভাবিক হলে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে কল করি।”এরপর বাবা মোরশেদুল আলম এসে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান।

তাহরিম তওবার স্কুল। ছবি: প্রতিনিধি

শিশুটির বাবা মোরশেদুল আলম বলেন, “কোচিংয়ের শিক্ষক বললেন কলম কিনতে গেছে। এরপর আর ফিরেনি। হাসপাতালেও খুঁজেছি। এক পর্যায়ে ফোন পাই। জানতে পারি মেয়ে দয়ালের মোড়ের একটি বাসায় আছে।”

তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “কী কারণে আমার মেয়েকে অপহরণ করা হলো? আমার আরও দুটি সন্তান আছে। তাদের নিরাপত্তা দেবে কে?”

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত চলছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকে যায়- কারা এই অপহরণকারী? কেন পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে অপহরণের চেষ্টা? পর্দার আড়ালে কে বা কারা?


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত