সংবাদ

মহাসড়কের সেই বৃদ্ধ এখন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১১:২৯ এএম

মহাসড়কের সেই বৃদ্ধ এখন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে
সাটুরিয়া প্রশাসনের মহতী উদ্যোগে শফিউল্লাহর পুনর্বাসন। ছবিঃ সংবাদ

অবশেষে একাকী ও মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেলেন মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা সেই অজ্ঞাত বৃদ্ধ। একটি সংবাদ প্রকাশের পর সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন–এর উদ্যোগে তাকে উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরে ঢাকার মিরপুর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

গত ১৭ মে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘মহাসড়কের পাশে একাকী বৃদ্ধার মানবেতর জীবন’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

হাসপাতালে টানা ৬ দিন চিকিৎসা ও সেবা দেওয়ার পর বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিচয় জানাতে সক্ষম হন। তার নাম শফিউল্লাহ কালাচান। বাবার নাম মৃত নাজিবুল্লাহ। তার বাড়ি ঢাকার লালবাগ এলাকায় বলে জানা যায়। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্বজন বা বৈধ অভিভাবকের খোঁজ না মেলায় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত চিকিৎসা দিয়ে বৃদ্ধকে সুস্থ করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।”

জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে মহাসড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছিলেন শফিউল্লাহ কালাচান। এ সময় স্থানীয় এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী আবদুল্লাহ নিয়মিত তার খাবার ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল্লাহ বলেন, “প্রথম যখন তাকে ব্রিজের নিচে দেখি, তখন তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পাশে দাঁড়াই। তবে একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীর পক্ষে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি ইতিবাচক সংবাদ কীভাবে একজন আশ্রয়হীন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, ঘটনাটি তারই উদাহরণ। দীর্ঘ ২ বছর পর নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। পরিচয় শনাক্ত হলেও পরিবারের কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় তার নিরাপত্তা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের কথা বিবেচনা করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন মিরপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিনি সরকারি তত্ত্বাবধানে নিরাপদ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


মহাসড়কের সেই বৃদ্ধ এখন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

অবশেষে একাকী ও মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেলেন মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা সেই অজ্ঞাত বৃদ্ধ। একটি সংবাদ প্রকাশের পর সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন–এর উদ্যোগে তাকে উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরে ঢাকার মিরপুর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

গত ১৭ মে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘মহাসড়কের পাশে একাকী বৃদ্ধার মানবেতর জীবন’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

হাসপাতালে টানা ৬ দিন চিকিৎসা ও সেবা দেওয়ার পর বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিচয় জানাতে সক্ষম হন। তার নাম শফিউল্লাহ কালাচান। বাবার নাম মৃত নাজিবুল্লাহ। তার বাড়ি ঢাকার লালবাগ এলাকায় বলে জানা যায়। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্বজন বা বৈধ অভিভাবকের খোঁজ না মেলায় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত চিকিৎসা দিয়ে বৃদ্ধকে সুস্থ করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।”

জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে মহাসড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছিলেন শফিউল্লাহ কালাচান। এ সময় স্থানীয় এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী আবদুল্লাহ নিয়মিত তার খাবার ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল্লাহ বলেন, “প্রথম যখন তাকে ব্রিজের নিচে দেখি, তখন তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পাশে দাঁড়াই। তবে একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীর পক্ষে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি ইতিবাচক সংবাদ কীভাবে একজন আশ্রয়হীন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, ঘটনাটি তারই উদাহরণ। দীর্ঘ ২ বছর পর নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। পরিচয় শনাক্ত হলেও পরিবারের কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় তার নিরাপত্তা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের কথা বিবেচনা করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন মিরপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিনি সরকারি তত্ত্বাবধানে নিরাপদ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত