তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে হঠাৎ করেই বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। ড্রাবিদা মুন্নাত্র কাজহাগাম-এর সঙ্গে পুরনো জোট ছেড়ে নতুন পথে হাঁটছে ভিজুথালায় চিরুঠায়গাল কাটছি ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ । অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়-এর নেতৃত্বে তামিলগা ভেতত্রী কাজহাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে। এই পরিস্থিতিতেই ডিএমকের সমালোচনার জবাবে ভিসিকে ও আইইউএমএল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই।
ডিএমকে অভিযোগ তোলে যে ভিসিকে ও আইইউএমএল টিভিকে-র সঙ্গে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী আচরণ করেছে। এর পাল্টা জবাবে এই দুই দল ডিএমকের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে আঙুল তোলে। তারা মনে করিয়ে দেয়, ডিএমকে একসময় ভারতীয় জনতা পার্টি -নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অংশ ছিল, পরে আবার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটে যোগ দেয়। ফলে “রাজনৈতিক নীতির পাঠ” দেওয়ার নৈতিক অধিকার ডিএমকের নেই এই বার্তাই স্পষ্ট করেছে তারা।
ভিসিকে-র তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ডিএমকে কখনও তাদের মিত্রদের যথাযথ ক্ষমতা ভাগ করে দেয়নি। এমনকি ১৯৯৯ সালে বিজেপির সঙ্গে জোট ও গুজরাত দাঙ্গার সময় নীরব থাকার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, আইইউএমএল সভাপতি কাদের মহিদিন সরাসরি সতর্ক করেছেন ডিএমকেকে। তাঁর বক্তব্য, তাদের সম্প্রদায়ের ভোট ছাড়া ডিএমকের জয় সম্ভব ছিল না, তাই অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, ডিএমকে ও অল ইন্ডিয়া আন্না ড্রাবিদা মুন্নাত্র কাজহাগাম সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিল, যা মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে।
এই মন্তব্য ঘিরে ডিএমকের নেতা এ . রাজা এবং আর. এস. ভারতীর বক্তব্যও বিতর্ক উসকে দেয়, যার জেরে শুধু ভিসিকে ও আইইউএমএল নয়, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মারক্সিস্ট ) ও কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-এর তরফ থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “বিজয় ফ্যাক্টর” তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বৈরথের বাইরে এখন নতুন জোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টিভিকে নিজেকে দ্রাবিড় আদর্শে বিশ্বাসী এবং বিজেপির বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে, ফলে কংগ্রেসসহ ছোট দলগুলিও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সুযোগ দেখছে।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিই ডিএমকের অস্বস্তির বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও, ভিসিকে শিবিরে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার মধ্যে দলিত-বিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে, বহুদিন পর সরকারে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ায় ভিসিকে ও আইইউএমএল শিবিরে উচ্ছ্বাসও লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে পুরনো সমীকরণ ভেঙে তৈরি হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে হঠাৎ করেই বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। ড্রাবিদা মুন্নাত্র কাজহাগাম-এর সঙ্গে পুরনো জোট ছেড়ে নতুন পথে হাঁটছে ভিজুথালায় চিরুঠায়গাল কাটছি ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ । অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়-এর নেতৃত্বে তামিলগা ভেতত্রী কাজহাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে। এই পরিস্থিতিতেই ডিএমকের সমালোচনার জবাবে ভিসিকে ও আইইউএমএল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই।
ডিএমকে অভিযোগ তোলে যে ভিসিকে ও আইইউএমএল টিভিকে-র সঙ্গে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী আচরণ করেছে। এর পাল্টা জবাবে এই দুই দল ডিএমকের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে আঙুল তোলে। তারা মনে করিয়ে দেয়, ডিএমকে একসময় ভারতীয় জনতা পার্টি -নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অংশ ছিল, পরে আবার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটে যোগ দেয়। ফলে “রাজনৈতিক নীতির পাঠ” দেওয়ার নৈতিক অধিকার ডিএমকের নেই এই বার্তাই স্পষ্ট করেছে তারা।
ভিসিকে-র তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ডিএমকে কখনও তাদের মিত্রদের যথাযথ ক্ষমতা ভাগ করে দেয়নি। এমনকি ১৯৯৯ সালে বিজেপির সঙ্গে জোট ও গুজরাত দাঙ্গার সময় নীরব থাকার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, আইইউএমএল সভাপতি কাদের মহিদিন সরাসরি সতর্ক করেছেন ডিএমকেকে। তাঁর বক্তব্য, তাদের সম্প্রদায়ের ভোট ছাড়া ডিএমকের জয় সম্ভব ছিল না, তাই অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, ডিএমকে ও অল ইন্ডিয়া আন্না ড্রাবিদা মুন্নাত্র কাজহাগাম সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিল, যা মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে।
এই মন্তব্য ঘিরে ডিএমকের নেতা এ . রাজা এবং আর. এস. ভারতীর বক্তব্যও বিতর্ক উসকে দেয়, যার জেরে শুধু ভিসিকে ও আইইউএমএল নয়, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মারক্সিস্ট ) ও কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-এর তরফ থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “বিজয় ফ্যাক্টর” তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বৈরথের বাইরে এখন নতুন জোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টিভিকে নিজেকে দ্রাবিড় আদর্শে বিশ্বাসী এবং বিজেপির বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে, ফলে কংগ্রেসসহ ছোট দলগুলিও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সুযোগ দেখছে।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিই ডিএমকের অস্বস্তির বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও, ভিসিকে শিবিরে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার মধ্যে দলিত-বিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে, বহুদিন পর সরকারে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ায় ভিসিকে ও আইইউএমএল শিবিরে উচ্ছ্বাসও লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে পুরনো সমীকরণ ভেঙে তৈরি হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

আপনার মতামত লিখুন