সংবাদ

চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চের দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চের দাবি

নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং মামলার জট কমাতে উচ্চ আদালতে অবিলম্বে বিচারক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

পাশাপাশি মিথ্যা মামলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং হয়রানির শিকার নির্দোষ ব্যক্তিদের জন্য ইংল্যান্ডের আদলে একটি ‘ক্ষতিপূরণ বোর্ড’ গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন  এই সংসদ সদস্য।

রোববার (২৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন।

শিশু রামিশা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে  মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এই নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সমগ্র জাতি আজকে অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।”

দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা হলো বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই আইনজীবী নেতা।

প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে খোকন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করুন। বিশেষ বেঞ্চ করলে তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে, জনগণও দেখতে ও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে।”

উচ্চ আদালতে বিচারক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। আগে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চ থাকলেও এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে কাজ চলছে। হাইকোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না।

ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানান তিনি। 

তিনি বলেন, “বিচারক নিয়োগের আইন না থাকায় এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, আপিল বিভাগে অবিলম্বে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।”

দেশে মিথ্যা মামলার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে তা বন্ধের জোর দাবি জানান সুপ্রিম কোর্ট বারের শীর্ষ এই নেতা।

তিনি বলেন, “ঘটনা ঘটে একটা, মানুষ মারা যায় একজন, কিন্তু আসামি করা হয় ১০০ জনকে। পুলিশও দেখা যায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়, অথচ বিচারে গিয়ে সাজা হয় মাত্র ৫-৭ জনের। এই প্রথা বন্ধ করতে হবে।”

জেনেশুনে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তাদের (আইও) পদাবনতি ও সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

‘ম্যালিসিয়াস প্রসিকিউশন’ বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়ে যারা বিনা অপরাধে জেল খাটেন, তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য ইংল্যান্ডের আদলে দেশে ‘ক্রিমিনাল কম্পেন্সেশন বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন খোকন। 

তিনি বলেন, “নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর বিচারকরা যদি ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়বিচার করেন, তবে মামলার এত জট থাকবে না।”

শিশু রামিশা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই না করার বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।

বিষয়টিকে ঢাকা বারের ‘নিজস্ব বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও আসামির আইনি অধিকারের পক্ষে মত দেন তিনি। খোকন বলেন, “প্রত্যেকটা মানুষের আইনগত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যদি আসামির সাজা বহাল থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর কারও কোনো সন্দেহ থাকে না।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং মামলার জট কমাতে উচ্চ আদালতে অবিলম্বে বিচারক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

পাশাপাশি মিথ্যা মামলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং হয়রানির শিকার নির্দোষ ব্যক্তিদের জন্য ইংল্যান্ডের আদলে একটি ‘ক্ষতিপূরণ বোর্ড’ গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন  এই সংসদ সদস্য।

রোববার (২৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন।

শিশু রামিশা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে  মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এই নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সমগ্র জাতি আজকে অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।”

দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা হলো বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই আইনজীবী নেতা।

প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে খোকন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করুন। বিশেষ বেঞ্চ করলে তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে, জনগণও দেখতে ও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে।”

উচ্চ আদালতে বিচারক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। আগে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চ থাকলেও এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে কাজ চলছে। হাইকোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না।

ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানান তিনি। 

তিনি বলেন, “বিচারক নিয়োগের আইন না থাকায় এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, আপিল বিভাগে অবিলম্বে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।”

দেশে মিথ্যা মামলার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে তা বন্ধের জোর দাবি জানান সুপ্রিম কোর্ট বারের শীর্ষ এই নেতা।

তিনি বলেন, “ঘটনা ঘটে একটা, মানুষ মারা যায় একজন, কিন্তু আসামি করা হয় ১০০ জনকে। পুলিশও দেখা যায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়, অথচ বিচারে গিয়ে সাজা হয় মাত্র ৫-৭ জনের। এই প্রথা বন্ধ করতে হবে।”

জেনেশুনে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তাদের (আইও) পদাবনতি ও সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

‘ম্যালিসিয়াস প্রসিকিউশন’ বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়ে যারা বিনা অপরাধে জেল খাটেন, তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য ইংল্যান্ডের আদলে দেশে ‘ক্রিমিনাল কম্পেন্সেশন বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন খোকন। 

তিনি বলেন, “নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর বিচারকরা যদি ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়বিচার করেন, তবে মামলার এত জট থাকবে না।”

শিশু রামিশা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই না করার বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।

বিষয়টিকে ঢাকা বারের ‘নিজস্ব বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও আসামির আইনি অধিকারের পক্ষে মত দেন তিনি। খোকন বলেন, “প্রত্যেকটা মানুষের আইনগত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যদি আসামির সাজা বহাল থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর কারও কোনো সন্দেহ থাকে না।”



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত