সংবাদ

চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ অ্যামনেস্টির নেই: চিফ প্রসিকিউটর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ অ্যামনেস্টির নেই: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ করার ‘কোনো আইনগত সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।

সম্প্রতি 'গণহত্যার' অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আজ রোববার ঈদুল আজহার ছুটির আগে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের মামলার অগ্রগতি, সাবেক এক আইজিপির সহযোগী গ্রেপ্তার এবং উচ্চ আদালতে চাঞ্চল্যকর মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “অ্যামনেস্টি কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, আমরা দেখি নাই। তবে আমাদের একটি চলমান বিচার প্রক্রিয়াতে হস্তক্ষেপ করার কোনো উচিতও না, আইনগত সুযোগও তাদের নাই।”

বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ‘একচ্ছত্র এখতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো সংস্থা, সেটা অ্যামনেস্টি হোক, অন্য কোনো হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন হোক—কারও এ বিষয়ে এখন হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না।”

গণমাধ্যমের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যারা নির্দেশদাতা বা ‘বয়ান তৈরি’ করেছেন, তাদের এই মামলায় আনা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে আমরা অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করবার জন্য বিচারের মুখোমুখি করব না।”

ট্রাইব্যুনালে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের  ১৫০টি মামলার তদন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। 

তিনি বলেন, “আমাদের জুলাই-৩৬ আন্দোলনে বড় যে ম্যাসাকার ও ক্যাজুয়াল্টিগুলো হয়েছে, বিশেষ করে নরসিংদী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও রাজশাহীতে—যেখানে বড় বড় ক্যাজুয়াল্টির ঘটনা ঘটেছিল, সেসব জায়গায় আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশন টিমের সমন্বয়ে ইনভেস্টিগেশনের ব্যবস্থা করেছি।”

খুব দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২২টি মামলা বিচার প্রক্রিয়ায় আছে এবং অন্তত দুটি মামলার রায় ঈদের পরপরই হতে পারে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

বিএনপি নেতা মামুনকে গুম করার অভিযোগে ইশতিয়াক আহমেদ জোহাদ্দার নামের এক ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, “তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি থানা ইউনিটের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতেন। আমাদের ভিকটিম মামুনকে বিশেষ বাহিনীর লোকজনের সহায়তায় দুইবার অপহরণ করা হয়েছে। আজকের অভিযুক্ত ব্যক্তির এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে।”

জোহাদ্দার তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে তদন্ত সংস্থার প্রাথমিক তথ্যের বরাতে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “তারা অবৈধভাবে যা আয়-ইনকাম করতেন, তিনি সেটার হয়তো ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করতেন। তার এই অপহরণগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আছে বলে তদন্ত সংস্থা প্রাথমিক অভিযোগ পেয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোতে নিম্ন আদালতে দ্রুত রায় হলেও উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) গিয়ে তা স্থবির হয়ে থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেন দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের অনিয়ম তদন্তে গঠিত ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র সদস্যরা অসুস্থতা ও হজে যাওয়ার কারণে প্রতিবেদন দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের পরই এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ অ্যামনেস্টির নেই: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ করার ‘কোনো আইনগত সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।

সম্প্রতি 'গণহত্যার' অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আজ রোববার ঈদুল আজহার ছুটির আগে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের মামলার অগ্রগতি, সাবেক এক আইজিপির সহযোগী গ্রেপ্তার এবং উচ্চ আদালতে চাঞ্চল্যকর মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “অ্যামনেস্টি কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, আমরা দেখি নাই। তবে আমাদের একটি চলমান বিচার প্রক্রিয়াতে হস্তক্ষেপ করার কোনো উচিতও না, আইনগত সুযোগও তাদের নাই।”

বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ‘একচ্ছত্র এখতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো সংস্থা, সেটা অ্যামনেস্টি হোক, অন্য কোনো হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন হোক—কারও এ বিষয়ে এখন হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না।”

গণমাধ্যমের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যারা নির্দেশদাতা বা ‘বয়ান তৈরি’ করেছেন, তাদের এই মামলায় আনা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে আমরা অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করবার জন্য বিচারের মুখোমুখি করব না।”

ট্রাইব্যুনালে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের  ১৫০টি মামলার তদন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। 

তিনি বলেন, “আমাদের জুলাই-৩৬ আন্দোলনে বড় যে ম্যাসাকার ও ক্যাজুয়াল্টিগুলো হয়েছে, বিশেষ করে নরসিংদী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও রাজশাহীতে—যেখানে বড় বড় ক্যাজুয়াল্টির ঘটনা ঘটেছিল, সেসব জায়গায় আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশন টিমের সমন্বয়ে ইনভেস্টিগেশনের ব্যবস্থা করেছি।”

খুব দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২২টি মামলা বিচার প্রক্রিয়ায় আছে এবং অন্তত দুটি মামলার রায় ঈদের পরপরই হতে পারে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

বিএনপি নেতা মামুনকে গুম করার অভিযোগে ইশতিয়াক আহমেদ জোহাদ্দার নামের এক ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, “তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি থানা ইউনিটের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতেন। আমাদের ভিকটিম মামুনকে বিশেষ বাহিনীর লোকজনের সহায়তায় দুইবার অপহরণ করা হয়েছে। আজকের অভিযুক্ত ব্যক্তির এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে।”

জোহাদ্দার তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে তদন্ত সংস্থার প্রাথমিক তথ্যের বরাতে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “তারা অবৈধভাবে যা আয়-ইনকাম করতেন, তিনি সেটার হয়তো ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করতেন। তার এই অপহরণগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আছে বলে তদন্ত সংস্থা প্রাথমিক অভিযোগ পেয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোতে নিম্ন আদালতে দ্রুত রায় হলেও উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) গিয়ে তা স্থবির হয়ে থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেন দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের অনিয়ম তদন্তে গঠিত ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র সদস্যরা অসুস্থতা ও হজে যাওয়ার কারণে প্রতিবেদন দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের পরই এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত