সংবাদ

পল্লবীর শিশু হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

পল্লবীর শিশু হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট
প্রতীকী ছবি।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটি ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শিশুর বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে মস্তকবিহীন মরদেহ পড়েছিল। মাথা পাওয়া যায় রুমের ভেতরে রাখা একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ওইদিনই সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

সোহেল রানা আদালতকে জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটি ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর তিনি শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের সময় জ্ঞান হারায় শিশুটি। এ সময় তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন সোহেল শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন। মরদেহ গুম করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করেন। 

দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ছুরি দিয়ে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


পল্লবীর শিশু হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটি ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শিশুর বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে মস্তকবিহীন মরদেহ পড়েছিল। মাথা পাওয়া যায় রুমের ভেতরে রাখা একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ওইদিনই সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

সোহেল রানা আদালতকে জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটি ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর তিনি শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের সময় জ্ঞান হারায় শিশুটি। এ সময় তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন সোহেল শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন। মরদেহ গুম করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করেন। 

দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ছুরি দিয়ে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত