ভারত আর শুধু অস্ত্র আমদানিকারী দেশ নয়- আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক শক্তি হয়ে উঠতে চলেছে দেশ। এমনই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগর জেলার শিরডিতে নতুন একটি গোলাবারুদ উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “যে দেশ নিজের অস্ত্র নিজে তৈরি করতে পারে, সেই দেশই নিজের ভবিষ্যৎ লিখতে পারে।”
তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু এখন সেই অংশগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশে, যা আগামী দিনে ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
রক্ষণশীল কাঠামো ভেঙে এখন বেসরকারি ক্ষেত্র শুধু যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী নয়, আধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তির নির্মাতাও হয়ে উঠছে- এ কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার ও বেসরকারি উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটলেই দেশ দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার, বিদেশি বিনিয়োগে শিথিলতা এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ মডেল’ চালু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রায় ৫,০০০ প্রতিরক্ষা সামগ্রীকে দেশীয়ভাবে উৎপাদনের তালিকায় রাখা হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর জন্য দেশেই কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তরুণ উদ্ভাবকদেরও এই ক্ষেত্রে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে পটাশিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করে গানপাউডার তৈরি করে সামরিক শক্তি বাড়ানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের ভারতের অগ্রগতি অনেক দূর এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই নতুন কারখানাটি প্রায় ২০০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে এবং এখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিও এর মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে নিবে গ্রুপ।
এই ইউনিটে আর্টিলারি শেল তৈরির পাশাপাশি মহাকাশ শিল্পকেও সহায়তা করা হবে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চাউহান এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাঁদনাভিস।
সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে ভারতের এই অগ্রযাত্রাকে “সোনালি অধ্যায়” বলে উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী- যেখানে লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা নয়, বিশ্ববাজারেও শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তোলা।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
ভারত আর শুধু অস্ত্র আমদানিকারী দেশ নয়- আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক শক্তি হয়ে উঠতে চলেছে দেশ। এমনই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগর জেলার শিরডিতে নতুন একটি গোলাবারুদ উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “যে দেশ নিজের অস্ত্র নিজে তৈরি করতে পারে, সেই দেশই নিজের ভবিষ্যৎ লিখতে পারে।”
তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু এখন সেই অংশগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশে, যা আগামী দিনে ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
রক্ষণশীল কাঠামো ভেঙে এখন বেসরকারি ক্ষেত্র শুধু যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী নয়, আধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তির নির্মাতাও হয়ে উঠছে- এ কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার ও বেসরকারি উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটলেই দেশ দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার, বিদেশি বিনিয়োগে শিথিলতা এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ মডেল’ চালু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রায় ৫,০০০ প্রতিরক্ষা সামগ্রীকে দেশীয়ভাবে উৎপাদনের তালিকায় রাখা হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর জন্য দেশেই কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তরুণ উদ্ভাবকদেরও এই ক্ষেত্রে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে পটাশিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করে গানপাউডার তৈরি করে সামরিক শক্তি বাড়ানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের ভারতের অগ্রগতি অনেক দূর এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই নতুন কারখানাটি প্রায় ২০০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে এবং এখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিও এর মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে নিবে গ্রুপ।
এই ইউনিটে আর্টিলারি শেল তৈরির পাশাপাশি মহাকাশ শিল্পকেও সহায়তা করা হবে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চাউহান এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাঁদনাভিস।
সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে ভারতের এই অগ্রযাত্রাকে “সোনালি অধ্যায়” বলে উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী- যেখানে লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা নয়, বিশ্ববাজারেও শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তোলা।

আপনার মতামত লিখুন