নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন বিদেশ সচিব মাৰক রুবিও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে ভারতীয় ও ভারতীয়-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়ে রুবিও স্পষ্ট বার্তা দেন-এ ধরনের মন্তব্য কখনোই ইউনাইটেড স্টেটস-এর মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
রুবিও বলেন, এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ থেকেই আসে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এমন কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ থাকে। তবে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তার কথায়, এই ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন বিদেশ সচিব জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসীদের অবদানে গড়ে ওঠা ইউনাইটেড স্টেটস একটি বহুত্ববাদী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষই আমেরিকার অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অবদান উল্লেখযোগ্য বলেও তিনি তুলে ধরেন।
এদিন, ভিসা নীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন রুবিও। জে-১, এফ-১ এবং এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই সংস্কার কোনওভাবেই ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং এটি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
তিনি আরও জানান, ভারতীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই আমেরিকায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ব্যাপারে ওয়াশিংটন আগ্রহী।
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, গত কয়েক বছরে অবৈধ অভিবাসনের কারণে ইউনাইটেড স্টেটস বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তার দাবি, প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, যার ফলে সরকারকে অভিবাসন ব্যবস্থার কাঠামো ও নীতি নতুন করে সাজাতে হয়েছে।
সবশেষে রুবিও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশেরই অধিকার রয়েছে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী অভিবাসন নীতি নির্ধারণ করার। এই পরিবর্তনগুলি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট-ভারত ও ইউনাইটেড স্টেটস-এর সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয়ের ওপরই ভবিষ্যতের দিশা নির্ভর করছে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন বিদেশ সচিব মাৰক রুবিও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে ভারতীয় ও ভারতীয়-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়ে রুবিও স্পষ্ট বার্তা দেন-এ ধরনের মন্তব্য কখনোই ইউনাইটেড স্টেটস-এর মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
রুবিও বলেন, এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ থেকেই আসে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এমন কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ থাকে। তবে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তার কথায়, এই ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন বিদেশ সচিব জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসীদের অবদানে গড়ে ওঠা ইউনাইটেড স্টেটস একটি বহুত্ববাদী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষই আমেরিকার অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অবদান উল্লেখযোগ্য বলেও তিনি তুলে ধরেন।
এদিন, ভিসা নীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন রুবিও। জে-১, এফ-১ এবং এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই সংস্কার কোনওভাবেই ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং এটি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
তিনি আরও জানান, ভারতীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই আমেরিকায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ব্যাপারে ওয়াশিংটন আগ্রহী।
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, গত কয়েক বছরে অবৈধ অভিবাসনের কারণে ইউনাইটেড স্টেটস বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তার দাবি, প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, যার ফলে সরকারকে অভিবাসন ব্যবস্থার কাঠামো ও নীতি নতুন করে সাজাতে হয়েছে।
সবশেষে রুবিও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশেরই অধিকার রয়েছে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী অভিবাসন নীতি নির্ধারণ করার। এই পরিবর্তনগুলি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট-ভারত ও ইউনাইটেড স্টেটস-এর সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয়ের ওপরই ভবিষ্যতের দিশা নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন