কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ মে) ভোরে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই ছাত্রদল নেতার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ছাত্রদল নেতার নাম আবু সাহেদ প্রান্ত বিশ্বাস। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাহিনীপাড়া-সান্দিয়ারা জিকে ক্যানেল সড়কের পাশে প্রান্ত বিশ্বাসের রঙিন টিনশেড ঘর। ঘরটির বেড়া ও টিনের গেটের কয়েক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রান্ত বিশ্বাসের ভাবি সাথী খাতুন বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলতে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো। ভয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।’
প্রতিবেশী মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘গুলির মতো শব্দ শুনে ভেবেছিলাম গরু ডাকাত এসেছে। পরে এসে দেখি প্রান্তদের ঘরের বেড়ায় কোপানো হয়েছে এবং বাইরের দরজা বন্ধ।’
ছাত্রদল নেতা প্রান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘ফজরের আজানের কিছুক্ষণ আগে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। এরপর কয়েকজনকে গালিগালাজ করতে ও ঘরের বেড়ায় কোপাতে শুনি। দুই মিনিটের মধ্যে তারা চলে যায়। হামলাকারীরা অন্তত দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।’
হামলার কারণ হিসেবে তিনি জানান, স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য মরিয়ম খাতুনের স্বামী নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে তার এক লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছে। ইতিপূর্বে তারা হুমকিও দিয়েছিলেন। তার দাবি, এই হামলার পেছনে তারাই জড়িত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর প্রান্ত আমার স্বামীর ইজারা নেওয়া নদীর মাছের কারবারে ভাগ চেয়েছিল। তা না দেওয়ায় সে মিথ্যা টাকার দাবি তুলছে। হামলার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
গুলির অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে কোপানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন