সংবাদ

ঈদে কেন গ্রামে ফেরে মানুষ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

ঈদে কেন গ্রামে ফেরে মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের প্রধান শহরগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। এটা শুধু বাংলাদেশের নয়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় সব মুসলিমপ্রধান দেশেই দেখা যায়। কিন্তু কেন মানুষ এত টান অনুভব করেন গ্রামের বাড়ির প্রতি?

পরিবারের টান: শহরের ব্যস্ত জীবনে সারা বছর ধরে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দূরে থাকতে হয়। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন- সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন বিভিন্ন জায়গায়। ঈদ সেই সুযোগ করে দেয় একসঙ্গে হওয়ার। ঈদের নামাজ শেষে সব মিলে একসঙ্গে খাওয়া, আড্ডা দেওয়া, একে অপরের খোঁজখবর নেওয়া- এসব মিস করেন শহুরে জীবনে।

অনেকে আছেন যাদের বাবা-মা গ্রামে থাকেন। বছরে একবার বা দুবার তাদের দেখার সুযোগ হয়। ঈদ সেই সুযোগ এনে দেয়। আবার অনেকে শহরে চাকরি করেন, কিন্তু বাড়ির মানুষজন গ্রামেই থাকেন। সন্তানদের ছুটি পেয়ে গ্রামে ফিরে গেলে বাবা-মায়ের মুখে এক অন্য রকম হাসি ফোটে।

গ্রামীণ আবহ: শহরের কোলাহল, যানজট, বায়ুদূষণ আর চাপের জীবনে অভ্যস্ত মানুষ গ্রামের নির্মল পরিবেশে ফিরতে চান। গ্রামের মাঠ, খোলা আকাশ, গাছপালা, নদী-খাল- সব মিলিয়ে এক অন্য রকম প্রশান্তি দেয়। যারা ছোটবেলা গ্রামে কাটিয়েছেন, তাদের কাছে স্মৃতির মিছিল জাগে। সেই পুরোনো বাড়ি, আম গাছ, পুকুর, মসজিদের আঙিনা- সব যেন ফিরে পায় এক অন্য রূপ।

গ্রামে ঈদের আমেজ শহরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। ঈদের আগে থেকেই বাড়ি বাড়ি চলতে থাকে প্রস্তুতি। ঈদের দিন নতুন জামা পরে নামাজ পড়তে যাওয়া, একে অপরের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা, ছোটদের ‘সালামি’ দেওয়া- এসব ঐতিহ্য গ্রামে আজও অটুট।

ঈদ মানে স্বস্তি: শহরে সারা বছর টিকে থাকার লড়াই চলে। অফিসের চাপ, বাসা ভাড়া, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, নানা দুশ্চিন্তা- এসব নিয়েই দিন কাটে। ঈদের ছুটি সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি দেয়। গ্রামে গেলে অফিসের ফোন, মিটিং, প্রজেক্টের চাপ থাকে না। থাকে না যানজটের মাথাব্যথা। খোলা মাঠে হাঁটা, ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়া- এসব মনকে ফুরফুরে করে দেয়।

স্মৃতির টানে ফেরা: যারা ছোটবেলা গ্রামে কাটিয়েছেন, তাদের কাছে গ্রাম মানে শৈশবের স্মৃতি। সেই স্মৃতিগুলো এখনও মনকে নাড়া দেয়। ঈদের আগের রাতে নতুন জামা কখন পাব, সেই অপেক্ষা; ঈদের সকালে বাবা-মায়ের কাছে সালামি নেওয়ার জন্য লাইন ধরা; মাঠে গিয়ে বড় ভাইদের সঙ্গে খেলাধুলা করা- এসব স্মৃতি আরেকবার বাঁচতে মানুষ ছুটে যান গ্রামে।

অনেকের বাবা-মা এখন আর নেই। কিন্তু তারাও ছুটে যান সেই বাড়িতে, যেখানে বাবা-মায়ের ছায়া ছিল। সেই বাড়ির প্রতিটি ইট, প্রতিটি গাছ তাঁদের স্মৃতি রক্ষা করে।

সংস্কৃতির অংশ: বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গ্রামের বাড়ির সম্পর্কটা আবেগের চেয়েও গভীর। শহরে থাকলেও ‘আমার বাড়ি’ শব্দটা এখনও গ্রামটাকেই বোঝায়। ‘বাপের বাড়ি’ মানে এখনও গ্রাম। চাকরির সুবাদে শহরে এলেও মানুষের মনটা থেকে যায় গ্রামে। ঈদ মানে সেই মনটাকে ফিরিয়ে নেওয়ার এক অনন্য সুযোগ।

বাঙালি সংস্কৃতিতে ঈদ মানে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা। ঈদে সবাই ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে মেতে ওঠেন আনন্দে। শহরের বাড়ির সীমানা পেরিয়ে যখন মানুষ গ্রামের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে দাঁড়ান, তখন যেন এক অন্য রকম স্বাধীনতা অনুভব করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


ঈদে কেন গ্রামে ফেরে মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের প্রধান শহরগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। এটা শুধু বাংলাদেশের নয়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় সব মুসলিমপ্রধান দেশেই দেখা যায়। কিন্তু কেন মানুষ এত টান অনুভব করেন গ্রামের বাড়ির প্রতি?

পরিবারের টান: শহরের ব্যস্ত জীবনে সারা বছর ধরে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দূরে থাকতে হয়। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন- সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন বিভিন্ন জায়গায়। ঈদ সেই সুযোগ করে দেয় একসঙ্গে হওয়ার। ঈদের নামাজ শেষে সব মিলে একসঙ্গে খাওয়া, আড্ডা দেওয়া, একে অপরের খোঁজখবর নেওয়া- এসব মিস করেন শহুরে জীবনে।

অনেকে আছেন যাদের বাবা-মা গ্রামে থাকেন। বছরে একবার বা দুবার তাদের দেখার সুযোগ হয়। ঈদ সেই সুযোগ এনে দেয়। আবার অনেকে শহরে চাকরি করেন, কিন্তু বাড়ির মানুষজন গ্রামেই থাকেন। সন্তানদের ছুটি পেয়ে গ্রামে ফিরে গেলে বাবা-মায়ের মুখে এক অন্য রকম হাসি ফোটে।

গ্রামীণ আবহ: শহরের কোলাহল, যানজট, বায়ুদূষণ আর চাপের জীবনে অভ্যস্ত মানুষ গ্রামের নির্মল পরিবেশে ফিরতে চান। গ্রামের মাঠ, খোলা আকাশ, গাছপালা, নদী-খাল- সব মিলিয়ে এক অন্য রকম প্রশান্তি দেয়। যারা ছোটবেলা গ্রামে কাটিয়েছেন, তাদের কাছে স্মৃতির মিছিল জাগে। সেই পুরোনো বাড়ি, আম গাছ, পুকুর, মসজিদের আঙিনা- সব যেন ফিরে পায় এক অন্য রূপ।

গ্রামে ঈদের আমেজ শহরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। ঈদের আগে থেকেই বাড়ি বাড়ি চলতে থাকে প্রস্তুতি। ঈদের দিন নতুন জামা পরে নামাজ পড়তে যাওয়া, একে অপরের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা, ছোটদের ‘সালামি’ দেওয়া- এসব ঐতিহ্য গ্রামে আজও অটুট।

ঈদ মানে স্বস্তি: শহরে সারা বছর টিকে থাকার লড়াই চলে। অফিসের চাপ, বাসা ভাড়া, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, নানা দুশ্চিন্তা- এসব নিয়েই দিন কাটে। ঈদের ছুটি সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি দেয়। গ্রামে গেলে অফিসের ফোন, মিটিং, প্রজেক্টের চাপ থাকে না। থাকে না যানজটের মাথাব্যথা। খোলা মাঠে হাঁটা, ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়া- এসব মনকে ফুরফুরে করে দেয়।

স্মৃতির টানে ফেরা: যারা ছোটবেলা গ্রামে কাটিয়েছেন, তাদের কাছে গ্রাম মানে শৈশবের স্মৃতি। সেই স্মৃতিগুলো এখনও মনকে নাড়া দেয়। ঈদের আগের রাতে নতুন জামা কখন পাব, সেই অপেক্ষা; ঈদের সকালে বাবা-মায়ের কাছে সালামি নেওয়ার জন্য লাইন ধরা; মাঠে গিয়ে বড় ভাইদের সঙ্গে খেলাধুলা করা- এসব স্মৃতি আরেকবার বাঁচতে মানুষ ছুটে যান গ্রামে।

অনেকের বাবা-মা এখন আর নেই। কিন্তু তারাও ছুটে যান সেই বাড়িতে, যেখানে বাবা-মায়ের ছায়া ছিল। সেই বাড়ির প্রতিটি ইট, প্রতিটি গাছ তাঁদের স্মৃতি রক্ষা করে।

সংস্কৃতির অংশ: বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গ্রামের বাড়ির সম্পর্কটা আবেগের চেয়েও গভীর। শহরে থাকলেও ‘আমার বাড়ি’ শব্দটা এখনও গ্রামটাকেই বোঝায়। ‘বাপের বাড়ি’ মানে এখনও গ্রাম। চাকরির সুবাদে শহরে এলেও মানুষের মনটা থেকে যায় গ্রামে। ঈদ মানে সেই মনটাকে ফিরিয়ে নেওয়ার এক অনন্য সুযোগ।

বাঙালি সংস্কৃতিতে ঈদ মানে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা। ঈদে সবাই ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে মেতে ওঠেন আনন্দে। শহরের বাড়ির সীমানা পেরিয়ে যখন মানুষ গ্রামের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে দাঁড়ান, তখন যেন এক অন্য রকম স্বাধীনতা অনুভব করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত