ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। শেষ সময়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন ব্যস্ততার তুঙ্গে। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি এবং পুরনো দা-বঁটিতে শান দিতে দিন-রাত কাজ করছেন কারিগররা। কামারশালাগুলো এখন হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখর।
সরেজমিনে উপজেলার জলছত্র বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোহা পোড়ানো আর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ থামছে না। আগুনের তাপে লোহা লাল করে তা থেকে তৈরি করা হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা ও বঁটি। কেউ নতুন সরঞ্জাম কিনছেন, আবার কেউ পুরনো সরঞ্জামে শান দিয়ে ধারালো করছেন।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, কাঠের হাতলের দা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বঁটি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাপাতি ৬০০ থেকে ১ হাজার এবং চাইনিজ কুড়াল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মধুপুরের জলছত্র বাজারে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই পেশায় জড়িত গোটু কামারের ছেলেরা। তারা জানান, কয়লা ও লোহার দাম বাড়ায় গত বছরের তুলনায় সরঞ্জামের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এবার এই বাজার থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার সরঞ্জাম বিক্রির আশা করছেন তারা।
নিপেন কর্মকার নামের আরেক কারিগর বলেন, ‘কয়লা ও লোহার দাম বেশি হলেও এবার বিক্রি ভালো। দুই-তিন দিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না। নতুন সরঞ্জাম বিক্রির পাশাপাশি পুরনো দা-ছুরিতে শান দেওয়ার কাজও প্রচুর আসছে।’
কাজের চাপ বাড়ায় এই পেশার শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে। শ্রমিকেরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন তারা। তবে লোহা ও কয়লার সংকটের কারণে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নাজিবুল বাশার ও লিয়াকত হোসেন নামের দুই ক্রেতা বলেন, কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে বাজারে এসেছেন তারা। গত বছরের তুলনায় প্রতিটি সরঞ্জামের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি মনে হচ্ছে। তবে মান ভালো পাওয়ায় তারা বাজার থেকেই দা-ছুরি কেনাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন