সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা, চেয়ারম্যান-এমডির পদত্যাগ


অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা, চেয়ারম্যান-এমডির পদত্যাগ
চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে আবারো অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন। এরপর থেকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) দুপুরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান। আর বিকেলে চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেন। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি।

এদিকে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার (২৪ মে) মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।

কর্মসূচিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, ব্যাংকের এমডি অপসারণ করা হলে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করতে হবে। দলীয় ও বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এস আলমকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং গ্রাহকদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে হবে। গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়। 

অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এম জুবায়দুর রহমানকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তখন গভর্নর ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের সরিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি। 

ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে (মার্চ, ২০২৬) নেমেছে। অন্যদিকে ব্যাংকটির প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা, চেয়ারম্যান-এমডির পদত্যাগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে আবারো অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন। এরপর থেকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) দুপুরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান। আর বিকেলে চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেন। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি।

এদিকে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার (২৪ মে) মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।

কর্মসূচিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, ব্যাংকের এমডি অপসারণ করা হলে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করতে হবে। দলীয় ও বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এস আলমকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং গ্রাহকদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে হবে। গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়। 

অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এম জুবায়দুর রহমানকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তখন গভর্নর ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের সরিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি। 

ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে (মার্চ, ২০২৬) নেমেছে। অন্যদিকে ব্যাংকটির প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত