সংবাদ

পল্লবীতে শিশু হত্যা: আসামিপক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

পল্লবীতে শিশু হত্যা: আসামিপক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ
প্রতীকী ছবি।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে রোববার (২৪ মে) এই তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে ‘স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার’ (রাষ্ট্রীয় আইনজীবী) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কোনো ফৌজদারি মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী না থাকলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। শিশু হত্যা মামলার সংবেদনশীলতা এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ইতোমধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এরপর বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নেয়। আদালত আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছে। ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হতে পারে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত শিশুটি গত ১৯ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির বাবা-মা আসামির ঘরের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর তার মাথা পাওয়া যায়।

ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি জ্ঞান হারালে এবং তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে ধরা পড়ার ভয়ে সে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সে দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পাশবিক নিষ্ঠুরতায় শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্নাও ওই ঘরে উপস্থিত ছিলেন।

ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় এই মামলা দায়ের করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


পল্লবীতে শিশু হত্যা: আসামিপক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে রোববার (২৪ মে) এই তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে ‘স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার’ (রাষ্ট্রীয় আইনজীবী) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কোনো ফৌজদারি মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী না থাকলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। শিশু হত্যা মামলার সংবেদনশীলতা এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ইতোমধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এরপর বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নেয়। আদালত আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছে। ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হতে পারে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত শিশুটি গত ১৯ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির বাবা-মা আসামির ঘরের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর তার মাথা পাওয়া যায়।

ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি জ্ঞান হারালে এবং তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে ধরা পড়ার ভয়ে সে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সে দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পাশবিক নিষ্ঠুরতায় শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্নাও ওই ঘরে উপস্থিত ছিলেন।

ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় এই মামলা দায়ের করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত