সংবাদ

চাঞ্চল্যকর মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন ও বিচারক নিয়োগের দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

চাঞ্চল্যকর মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন ও বিচারক নিয়োগের দাবি

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নারকীয় ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। এই পৈশাচিক ঘটনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সমগ্র জাতি আজকে অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।”

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং বিচারক নিয়োগের জোর দাবি জানান।

তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মন্থর গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা হলো, বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্রুত বিচার করলে এটা কোনো বেআইনি কাজ নয়, বরং দীর্ঘসূত্রতা করলে মানুষ সেটাকে খারাপ মনে করে।”

নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর আপিল ঝুলে থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কারো কোনো সাজা হলে আপিল বিভাগে আসার পর সেই আপিল শুনানি হতে কত বছর লাগবে কেউ জানেন না। এজন্য সরকারের আশ্বাসেও মানুষ বিশ্বাস করছে না।”

এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করুন। বিশেষ বেঞ্চ করলে তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে, জনগণও দেখতে ও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে।”

আইনজীবী নেতা খোকন জানান, তীব্র বিচারক সংকটের কারণে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ আজ স্থবির। আগে যেখানে তিনটি বেঞ্চ কার্যকর ছিল, সেখানে এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চলছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “হাই কোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না।”

কোরবানির ঈদের ছুটির পরপরই পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগের তাগিদ দিয়ে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিচারক নিয়োগের আইন না থাকায় এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। সরকার এভাবে ধীরগতিতে চলতে পারে না। লম্বা সিরিয়ালের কারণে মানুষের বিচার পেতে দেরি হলে তা দুর্নীতির জন্ম দেয়। কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, আপিল বিভাগে অবিলম্বে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।”

এদিকে, রামিসা হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই না করার বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক তুলে ধরেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “তারা মনে করলে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে প্রত্যেকটা মানুষের আইনগত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। একজন আইনজীবীরও অধিকার আছে মামলা লড়ার। আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যদি আসামির সাজা বহাল থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর কারও কোনো সন্দেহ থাকে না।”

রামিসার মতো আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ যেন বিচারহীনতার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সেজন্য অবিলম্বে বিচার বিভাগে দৃশ্যমান পরিবর্তন চান দেশের এই শীর্ষ আইনজীবী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


চাঞ্চল্যকর মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন ও বিচারক নিয়োগের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নারকীয় ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। এই পৈশাচিক ঘটনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সমগ্র জাতি আজকে অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।”

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং বিচারক নিয়োগের জোর দাবি জানান।

তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মন্থর গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা হলো, বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্রুত বিচার করলে এটা কোনো বেআইনি কাজ নয়, বরং দীর্ঘসূত্রতা করলে মানুষ সেটাকে খারাপ মনে করে।”

নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর আপিল ঝুলে থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কারো কোনো সাজা হলে আপিল বিভাগে আসার পর সেই আপিল শুনানি হতে কত বছর লাগবে কেউ জানেন না। এজন্য সরকারের আশ্বাসেও মানুষ বিশ্বাস করছে না।”

এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করুন। বিশেষ বেঞ্চ করলে তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে, জনগণও দেখতে ও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে।”

আইনজীবী নেতা খোকন জানান, তীব্র বিচারক সংকটের কারণে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ আজ স্থবির। আগে যেখানে তিনটি বেঞ্চ কার্যকর ছিল, সেখানে এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চলছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “হাই কোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না।”

কোরবানির ঈদের ছুটির পরপরই পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগের তাগিদ দিয়ে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিচারক নিয়োগের আইন না থাকায় এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। সরকার এভাবে ধীরগতিতে চলতে পারে না। লম্বা সিরিয়ালের কারণে মানুষের বিচার পেতে দেরি হলে তা দুর্নীতির জন্ম দেয়। কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, আপিল বিভাগে অবিলম্বে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।”

এদিকে, রামিসা হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই না করার বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক তুলে ধরেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “তারা মনে করলে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে প্রত্যেকটা মানুষের আইনগত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। একজন আইনজীবীরও অধিকার আছে মামলা লড়ার। আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যদি আসামির সাজা বহাল থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর কারও কোনো সন্দেহ থাকে না।”

রামিসার মতো আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ যেন বিচারহীনতার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সেজন্য অবিলম্বে বিচার বিভাগে দৃশ্যমান পরিবর্তন চান দেশের এই শীর্ষ আইনজীবী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত