সংবাদ

উপকূলের সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

উপকূলের সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি
ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) এবং লিডার্স-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকিতে। এই সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রোববার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) এবং লিডার্স-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সুমন, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, লিডার্সের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা (মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ)। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫.১৭ শতাংশে (৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা মাত্র ৫.২১ শতাংশ (৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা)। এর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেন বক্তারা।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করছে। চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মৎস্য রফতানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এতকিছুর পরও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল এবং উপকূলের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপকূল উন্নয়নে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে ১৯ জেলার সুষম উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা। দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য আলাদা দপ্তর তৈরি করা। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং প্রতিটি বাড়িকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তোলা।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুর রসুল বাবুল বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। তিনি এ বিষয়ে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


উপকূলের সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকিতে। এই সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রোববার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) এবং লিডার্স-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সুমন, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, লিডার্সের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা (মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ)। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫.১৭ শতাংশে (৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা মাত্র ৫.২১ শতাংশ (৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা)। এর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেন বক্তারা।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করছে। চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মৎস্য রফতানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এতকিছুর পরও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল এবং উপকূলের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপকূল উন্নয়নে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে ১৯ জেলার সুষম উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা। দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য আলাদা দপ্তর তৈরি করা। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং প্রতিটি বাড়িকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তোলা।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুর রসুল বাবুল বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। তিনি এ বিষয়ে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত