সংবাদ

ভাঙনের মুখে জোড়া ফুল


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

ভাঙনের মুখে জোড়া ফুল
মমতা ব্যানার্জি। ছবি: সংগৃহীত

মে মাসের গরমের মধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে তাপমাত্রা ছুঁয়েছে চূড়ায়। একদিকে দীর্ঘদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস-এর ভাঙন, অন্যদিকে নির্বাচনের ফল ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ- সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন অস্থির এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

৪ মে-এর ফলাফল শুধু একটি হার নয়- এটা যেন তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। দলীয় অন্দরে একের পর এক অসন্তোষ, প্রকাশ্যে সমালোচনা, আর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই দল কি আগের মতো সংগঠিতভাবে টিকে থাকতে পারবে? 

দলের ভেতরেই শোনা যাচ্ছে, অন্তত ১৮ জন হেভিওয়েট নেতা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত- গ্রাসরুট স্তরেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে- কেউ বিজেপির দিকে, কেউ আবার কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে অভিষেক ব্যানার্জীর নাম। অভিযোগ, ডেটা-নির্ভর কৌশল, আই-প্যাক নির্ভর প্রার্থী নির্বাচন এবং পুরনো সংগঠনকে উপেক্ষা- এই সব মিলিয়েই আজকের পরিস্থিতির জন্ম। ৭৪ জন বিধায়ককে বাদ দিয়ে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত যে বড়সড় ঝুঁকি ছিল, ফলাফল তা প্রমাণ করেছে বলেই মত অনেকের।

অন্যদিকে, অনেক আগেই দলের বড় ধাক্কা হিসেবে উঠে এসেছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্থান। এখন সেই ফাঁক আরও স্পষ্ট।

তবে এই রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ এসেছে মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যে। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন- এই নির্বাচন “স্বাভাবিক” নয়। তার দাবি, ডিজিটাল কারচুপি এবং প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতায় তৃণমূলকে হারানো হয়েছে।

মমতার কথায়, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃণমূল ২৩০টিরও বেশি আসন পেত। বিজেপির সঙ্গে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩২ লক্ষ- যা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট। তিনি ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে নেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটা আসলে পরাজয় মেনে নিতে না পারার মানসিকতা। তাদের বক্তব্য,

মানুষ দুর্নীতি, কাটমানি ও শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। নির্বাচন হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত ছবি- একদিকে একটি দল ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে, অন্যদিকে সেই দলই নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের মূল সংকট শুধু নির্বাচন হারাই নয়- বরং দীর্ঘদিনের শাসনের পর সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং আদর্শগত শূন্যতা। আর এই পরিস্থিতিতে পরাজয় যেন সেই দুর্বলতাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই— তৃণমূল কি এই সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি এই অভিযোগ-প্রতিআরোপের রাজনীতি আরও বড় অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাবে বাংলাকে? বাংলার রাজনীতি এখন এক টার্নিং পয়েন্টে- পরবর্তী কয়েক মাসই ঠিক করবে, এটা সাময়িক ধাক্কা, নাকি এক বড় পরিবর্তনের সূচনা?

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


ভাঙনের মুখে জোড়া ফুল

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

মে মাসের গরমের মধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে তাপমাত্রা ছুঁয়েছে চূড়ায়। একদিকে দীর্ঘদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস-এর ভাঙন, অন্যদিকে নির্বাচনের ফল ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ- সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন অস্থির এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

৪ মে-এর ফলাফল শুধু একটি হার নয়- এটা যেন তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। দলীয় অন্দরে একের পর এক অসন্তোষ, প্রকাশ্যে সমালোচনা, আর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই দল কি আগের মতো সংগঠিতভাবে টিকে থাকতে পারবে? 

দলের ভেতরেই শোনা যাচ্ছে, অন্তত ১৮ জন হেভিওয়েট নেতা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত- গ্রাসরুট স্তরেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে- কেউ বিজেপির দিকে, কেউ আবার কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে অভিষেক ব্যানার্জীর নাম। অভিযোগ, ডেটা-নির্ভর কৌশল, আই-প্যাক নির্ভর প্রার্থী নির্বাচন এবং পুরনো সংগঠনকে উপেক্ষা- এই সব মিলিয়েই আজকের পরিস্থিতির জন্ম। ৭৪ জন বিধায়ককে বাদ দিয়ে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত যে বড়সড় ঝুঁকি ছিল, ফলাফল তা প্রমাণ করেছে বলেই মত অনেকের।

অন্যদিকে, অনেক আগেই দলের বড় ধাক্কা হিসেবে উঠে এসেছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্থান। এখন সেই ফাঁক আরও স্পষ্ট।

তবে এই রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ এসেছে মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যে। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন- এই নির্বাচন “স্বাভাবিক” নয়। তার দাবি, ডিজিটাল কারচুপি এবং প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতায় তৃণমূলকে হারানো হয়েছে।

মমতার কথায়, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃণমূল ২৩০টিরও বেশি আসন পেত। বিজেপির সঙ্গে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩২ লক্ষ- যা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট। তিনি ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে নেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটা আসলে পরাজয় মেনে নিতে না পারার মানসিকতা। তাদের বক্তব্য,

মানুষ দুর্নীতি, কাটমানি ও শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। নির্বাচন হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত ছবি- একদিকে একটি দল ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে, অন্যদিকে সেই দলই নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের মূল সংকট শুধু নির্বাচন হারাই নয়- বরং দীর্ঘদিনের শাসনের পর সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং আদর্শগত শূন্যতা। আর এই পরিস্থিতিতে পরাজয় যেন সেই দুর্বলতাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই— তৃণমূল কি এই সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি এই অভিযোগ-প্রতিআরোপের রাজনীতি আরও বড় অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাবে বাংলাকে? বাংলার রাজনীতি এখন এক টার্নিং পয়েন্টে- পরবর্তী কয়েক মাসই ঠিক করবে, এটা সাময়িক ধাক্কা, নাকি এক বড় পরিবর্তনের সূচনা?


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত