আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা থাকলেও তার একদিন আগেই আজ বুধবার রাজধানীতে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বৃষ্টির মধ্যেই রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৩৮৫/সি ঠিকানায় ‘খানকায়ে সুরেশ্বরী’র আয়োজনে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আয়োজিত এই জামাতে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন এবং নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এই জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা দাবি করেছেন যে, এটি কোনো নতুন আয়োজন নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই নিয়ম মেনে আসছেন। জামাতে অংশ নেওয়া মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "বৃষ্টি ছিল, তাই অনেক মানুষ আসতে পারেন নাই। যারা দূর থেকে আসে, তারাও অনেকে আসতে পারেননি। আশেপাশের এলাকার মানুষজনই বেশি ছিল। তারপরও শতাধিক মুসল্লি হয়েছে। আমাদের এখানে এটা নতুন কিছু না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এইভাবে ঈদের জামাত করে আসছি। আমাদের হিসাব-গণনাও আছে। আপনারা হয়তো আগে আসেন নাই, কিন্তু এটা আমাদের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ।"
একদিন আগে নামাজ আদায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নামাজ আদায় করি। আমাদের গণনার পদ্ধতি আছে। সেটার ওপর নির্ভর করেই আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।"
জামাতের ইমামতির বিষয়ে তিনি জানান যে, স্থানীয় একজন ভালো মানুষ ও ধর্মীয় নেতা এই জামাতে ইমামতি করেছেন।
একই জামাতে নামাজ পড়তে আসা নাজিম উদ্দিন নামের অপর এক মুসল্লি বলেন, "আমরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রতি বছর এখানে ঈদের নামাজ আদায় করি। এটা এবারই প্রথম না, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবছর আমরা এভাবে ঈদের নামাজ আদায় করছি।"
সেখানে ঈদের নামাজ পড়তে এসেছিলেন হাফেজ মিয়া ইউসুন, যিনি নিজেকে মুসলিম হেলাল কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি দাবি করেন। তবে বৃষ্টির কারণে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় তিনি জামাত ধরতে পারেননি উল্লেখ করে বলেন, "সকালে বৃষ্টি ছিল। আমি আসতে দেরি করে ফেলেছি। তাই ঈদের জামাত ধরতে পারিনি। প্রতি বছর আমি এখানে এসে ঈদের নামাজ পড়ি।"
একদিন আগে ঈদ পালনের যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, "সপ্তাহের যেদিন মক্কা-মদিনায় জুমার নামাজ হয়, সেই দিনের তিন ঘণ্টা আগে আমাদের দেশে জুমার নামাজ। যদি ইংরেজি মাসের বিষয়ে সারা পৃথিবীতে মিল থাকতে পারে, তাহলে আরবি মাসের সঙ্গে মিল থাকবে না কেন? আমরা শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ি। মক্কা-মদিনায়ও একই দিন জুমার নামাজ। যেখানে আরবি মাস চাঁদের ধর্মীয় মান, সেখানে কেন মক্কা-মদিনার সিরিয়াল বাদ দিয়ে এখানে একদিন পর ঈদের নামাজ হবে। আমি মনে করি একদিন অপেক্ষায় থাকা ভুল।"
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মূল ঈদের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে লাখো মুসল্লি অংশ নেবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো রাজধানীতে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা থাকলেও তার একদিন আগেই আজ বুধবার রাজধানীতে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বৃষ্টির মধ্যেই রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৩৮৫/সি ঠিকানায় ‘খানকায়ে সুরেশ্বরী’র আয়োজনে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আয়োজিত এই জামাতে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন এবং নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এই জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা দাবি করেছেন যে, এটি কোনো নতুন আয়োজন নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই নিয়ম মেনে আসছেন। জামাতে অংশ নেওয়া মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "বৃষ্টি ছিল, তাই অনেক মানুষ আসতে পারেন নাই। যারা দূর থেকে আসে, তারাও অনেকে আসতে পারেননি। আশেপাশের এলাকার মানুষজনই বেশি ছিল। তারপরও শতাধিক মুসল্লি হয়েছে। আমাদের এখানে এটা নতুন কিছু না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এইভাবে ঈদের জামাত করে আসছি। আমাদের হিসাব-গণনাও আছে। আপনারা হয়তো আগে আসেন নাই, কিন্তু এটা আমাদের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ।"
একদিন আগে নামাজ আদায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নামাজ আদায় করি। আমাদের গণনার পদ্ধতি আছে। সেটার ওপর নির্ভর করেই আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।"
জামাতের ইমামতির বিষয়ে তিনি জানান যে, স্থানীয় একজন ভালো মানুষ ও ধর্মীয় নেতা এই জামাতে ইমামতি করেছেন।
একই জামাতে নামাজ পড়তে আসা নাজিম উদ্দিন নামের অপর এক মুসল্লি বলেন, "আমরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রতি বছর এখানে ঈদের নামাজ আদায় করি। এটা এবারই প্রথম না, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবছর আমরা এভাবে ঈদের নামাজ আদায় করছি।"
সেখানে ঈদের নামাজ পড়তে এসেছিলেন হাফেজ মিয়া ইউসুন, যিনি নিজেকে মুসলিম হেলাল কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি দাবি করেন। তবে বৃষ্টির কারণে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় তিনি জামাত ধরতে পারেননি উল্লেখ করে বলেন, "সকালে বৃষ্টি ছিল। আমি আসতে দেরি করে ফেলেছি। তাই ঈদের জামাত ধরতে পারিনি। প্রতি বছর আমি এখানে এসে ঈদের নামাজ পড়ি।"
একদিন আগে ঈদ পালনের যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, "সপ্তাহের যেদিন মক্কা-মদিনায় জুমার নামাজ হয়, সেই দিনের তিন ঘণ্টা আগে আমাদের দেশে জুমার নামাজ। যদি ইংরেজি মাসের বিষয়ে সারা পৃথিবীতে মিল থাকতে পারে, তাহলে আরবি মাসের সঙ্গে মিল থাকবে না কেন? আমরা শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ি। মক্কা-মদিনায়ও একই দিন জুমার নামাজ। যেখানে আরবি মাস চাঁদের ধর্মীয় মান, সেখানে কেন মক্কা-মদিনার সিরিয়াল বাদ দিয়ে এখানে একদিন পর ঈদের নামাজ হবে। আমি মনে করি একদিন অপেক্ষায় থাকা ভুল।"
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মূল ঈদের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে লাখো মুসল্লি অংশ নেবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো রাজধানীতে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন