সংবাদ

হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর গুঞ্জন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর গুঞ্জন

তেহরানে সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

​আহমাদ ওয়াহিদির মৃত্যুর দাবিটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কিছু সামরিক বিশ্লেষকের পক্ষ থেকে সামনে আসে। তাদের দাবি, তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াহিদি নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

​এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন এই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি ছোট ও শক্তিশালী গোষ্ঠীর সদস্য বলেও ধারণা করা হয়। প্রসঙ্গত, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

​দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্যতম বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত আহমাদ ওয়াহিদি। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার'-এর মতে, ওয়াহিদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আইআরজিসির ভেতরে বিশাল প্রভাব রাখেন। ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

​প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী—ওয়াহিদির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি ইরানের বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

​তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার ঘোর বিরোধী এবং যেকোনো আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে।

​ওয়াহিদি সবসময়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার উগ্র ও কঠোর বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন, যা আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন।

​সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল ধাক্কা হবে। কারণ, আইআরজিসি শুধু ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি দেশটির সামরিক কার্যক্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডও সরাসরি তদারকি করে।

​এদিকে, মৃত্যুর এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কিছু ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিশ্লেষক সরব হয়ে উঠেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিবিরোধী প্রচেষ্টায় ইউরোপের দেশগুলোর আরও সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।

​তাদের মতে, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত এখনই তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তথাকথিত অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া। তবে সবকিছুর পরেও, ওয়াহিদির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে তা জানতে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর গুঞ্জন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

তেহরানে সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

​আহমাদ ওয়াহিদির মৃত্যুর দাবিটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কিছু সামরিক বিশ্লেষকের পক্ষ থেকে সামনে আসে। তাদের দাবি, তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াহিদি নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

​এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন এই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি ছোট ও শক্তিশালী গোষ্ঠীর সদস্য বলেও ধারণা করা হয়। প্রসঙ্গত, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

​দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্যতম বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত আহমাদ ওয়াহিদি। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার'-এর মতে, ওয়াহিদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আইআরজিসির ভেতরে বিশাল প্রভাব রাখেন। ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

​প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী—ওয়াহিদির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি ইরানের বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

​তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার ঘোর বিরোধী এবং যেকোনো আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে।

​ওয়াহিদি সবসময়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার উগ্র ও কঠোর বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন, যা আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন।

​সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল ধাক্কা হবে। কারণ, আইআরজিসি শুধু ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি দেশটির সামরিক কার্যক্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডও সরাসরি তদারকি করে।

​এদিকে, মৃত্যুর এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কিছু ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিশ্লেষক সরব হয়ে উঠেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিবিরোধী প্রচেষ্টায় ইউরোপের দেশগুলোর আরও সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।

​তাদের মতে, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত এখনই তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তথাকথিত অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া। তবে সবকিছুর পরেও, ওয়াহিদির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে তা জানতে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত