সংবাদ

সংকটে ইসলামী ব্যাংক, সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

সংকটে ইসলামী ব্যাংক, সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে

  • পাঁচ দিনে ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা তুলে ফেলেছে আমানতকারীরা 

গ্রাহকদের জমানো আমানত তোলার হুড়োহুড়ি আর তীব্র অস্থিরতার মুখে পড়ে চরম তারল্য সংকটে ভুগছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঈদের ছুটির পর গত রবিবার পর্যন্ত মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে জমার তুলনায় প্রায় হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই টাকা তোলার পরিমাণ অস্বাভাবিক রকমের বেশি।

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং আস্থার সংকটের কারণেই গ্রাহকদের একাংশ তড়িঘড়ি করে নিজেদের আমানত তুলে নিচ্ছেন। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা একযোগে উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটি আবারও বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা সিআরআর (CRR) বজায় রাখার ক্ষেত্রে চরম চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়েছে ব্যাংকটি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই সংকটের সূত্রপাত হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদেইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গত জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে একটি পক্ষ, যা ব্যাংকের ভেতরের পরিবেশকে করে তোলে অশান্ত।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, "বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।"

এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান না তারা।

২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে, যার খেসারত ব্যাংকটিকে এখনো দিতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি চেয়ারম্যান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন করে পরিবর্তন আসার পর ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই নতুন এই অস্থিরতা গ্রাহকদের মনে আবারও আতঙ্ক তৈরি করেছে। ফলে সাধারণ আমানতকারীদের জমানো টাকার নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে কাউন্টারে টাকা তোলার দীর্ঘ লাইনে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


সংকটে ইসলামী ব্যাংক, সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

  • পাঁচ দিনে ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা তুলে ফেলেছে আমানতকারীরা 

গ্রাহকদের জমানো আমানত তোলার হুড়োহুড়ি আর তীব্র অস্থিরতার মুখে পড়ে চরম তারল্য সংকটে ভুগছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঈদের ছুটির পর গত রবিবার পর্যন্ত মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে জমার তুলনায় প্রায় হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই টাকা তোলার পরিমাণ অস্বাভাবিক রকমের বেশি।

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং আস্থার সংকটের কারণেই গ্রাহকদের একাংশ তড়িঘড়ি করে নিজেদের আমানত তুলে নিচ্ছেন। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা একযোগে উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটি আবারও বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা সিআরআর (CRR) বজায় রাখার ক্ষেত্রে চরম চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়েছে ব্যাংকটি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই সংকটের সূত্রপাত হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদেইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গত জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে একটি পক্ষ, যা ব্যাংকের ভেতরের পরিবেশকে করে তোলে অশান্ত।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, "বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।"

এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান না তারা।

২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে, যার খেসারত ব্যাংকটিকে এখনো দিতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি চেয়ারম্যান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন করে পরিবর্তন আসার পর ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই নতুন এই অস্থিরতা গ্রাহকদের মনে আবারও আতঙ্ক তৈরি করেছে। ফলে সাধারণ আমানতকারীদের জমানো টাকার নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে কাউন্টারে টাকা তোলার দীর্ঘ লাইনে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত