তিনি বলেছেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে’ ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১২টি আলোচিত বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়েছে। এসব তদন্তের ভিত্তিতে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, সাবেক কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী এসব কথা জানান।
এর আগে বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
সংসদে বিএনপির এমপি সেলিম রেজার প্রশ্ন ছিল- “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার’ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ কী।”
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন কমিশন পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ১২টি বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা এবং বিভিন্ন অভিযোগ দুদকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনা বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবনের জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ও অযোগ্য (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক বিএসইসি কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে দুর্নীতি ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী।
আইএফআইসি গ্যারান্টিড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে আজীবন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই ঘটনায় তার ছেলে এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ারকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের সাবেক প্রধান নির্বাহী ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্তে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনাতেও দুর্নীতি ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগ দুদকে পাঠানো হয়েছে।
ফরচুন শুজ লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্তে আইসিবির অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর তথ্য সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী। ওই ঘটনার বিষয়েও দুদককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, কয়েকটি আলোচিত তদন্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রিং শাইন টেক্সটাইলস, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং এবিজি লিমিটেড (বসুন্ধরা গ্রুপ) সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় বিএসইসির তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।
আল-আমিন কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, এমেরাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের বিষয়ে শুনানি ও পুনঃশুনানির প্রক্রিয়া চলছে।
সংসদে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও বাজার কারসাজি নিয়ে ১১৪টি অনুসন্ধান, ১২টি তদন্ত এবং ৬৪টি পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় ৬৭৫টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং ১৬টি বিষয় তদন্তের জন্য দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, বাজার কারসাজির অভিযোগে বেক্সিমকো লিমিটেড, আবুল খায়ের হিরু ও সংশ্লিষ্টদের ৭০০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও জালিয়াতির অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে মোট ১৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে জরিমানার অঙ্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং দুদকে পাঠানো অভিযোগের বিস্তারিত থাকলেও এসব জরিমানার কত টাকা আদায় হয়েছে, কতগুলো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে কিংবা দুদকে পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে কতগুলো মামলা হয়েছে, সে তথ্য দেওয়া হয়নি। তদন্তে চিহ্নিত অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রতিকার পেয়েছেন কি না, সে বিষয়েও সংসদে কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
অর্থ পাচার রোধ এবং অতীতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সংসদে তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করেছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জেআইটির কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সংসদে বলেন, গত এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে মোট প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালতের মাধ্যমে সংযুক্ত বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১৪২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
তিনি বলেছেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে’ ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১২টি আলোচিত বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়েছে। এসব তদন্তের ভিত্তিতে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, সাবেক কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী এসব কথা জানান।
এর আগে বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
সংসদে বিএনপির এমপি সেলিম রেজার প্রশ্ন ছিল- “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার’ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ কী।”
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুকুরচুরিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন কমিশন পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ১২টি বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা এবং বিভিন্ন অভিযোগ দুদকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনা বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবনের জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ও অযোগ্য (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক বিএসইসি কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে দুর্নীতি ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী।
আইএফআইসি গ্যারান্টিড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে আজীবন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই ঘটনায় তার ছেলে এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ারকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের সাবেক প্রধান নির্বাহী ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্তে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনাতেও দুর্নীতি ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগ দুদকে পাঠানো হয়েছে।
ফরচুন শুজ লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্তে আইসিবির অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর তথ্য সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী। ওই ঘটনার বিষয়েও দুদককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, কয়েকটি আলোচিত তদন্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রিং শাইন টেক্সটাইলস, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং এবিজি লিমিটেড (বসুন্ধরা গ্রুপ) সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় বিএসইসির তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।
আল-আমিন কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, এমেরাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের বিষয়ে শুনানি ও পুনঃশুনানির প্রক্রিয়া চলছে।
সংসদে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও বাজার কারসাজি নিয়ে ১১৪টি অনুসন্ধান, ১২টি তদন্ত এবং ৬৪টি পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় ৬৭৫টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং ১৬টি বিষয় তদন্তের জন্য দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, বাজার কারসাজির অভিযোগে বেক্সিমকো লিমিটেড, আবুল খায়ের হিরু ও সংশ্লিষ্টদের ৭০০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও জালিয়াতির অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে মোট ১৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে জরিমানার অঙ্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং দুদকে পাঠানো অভিযোগের বিস্তারিত থাকলেও এসব জরিমানার কত টাকা আদায় হয়েছে, কতগুলো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে কিংবা দুদকে পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে কতগুলো মামলা হয়েছে, সে তথ্য দেওয়া হয়নি। তদন্তে চিহ্নিত অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রতিকার পেয়েছেন কি না, সে বিষয়েও সংসদে কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
অর্থ পাচার রোধ এবং অতীতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সংসদে তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করেছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জেআইটির কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সংসদে বলেন, গত এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে মোট প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালতের মাধ্যমে সংযুক্ত বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১৪২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন