সংবাদ

হৃদরোগীদের জন্য সুখবর, কমলো রিংয়ের দাম


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

হৃদরোগীদের জন্য সুখবর, কমলো রিংয়ের দাম
ছবি : সংগৃহীত

হৃদরোগীদের জন্য এসেছে বড় সুখবর। চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘হার্টের রিং’ বা করোনারি স্টেন্টের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। একইসঙ্গে দেশের সব হাসপাতালকে নতুন মূল্য কার্যকর করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠি দেশের হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়। 

এতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, নতুন দাম অনুসরণ করে স্টেন্ট বিক্রি করতে হবে এবং তা কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের আওতায় আনা যাবে না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ট্যাক্স, ভ্যাট, আমদানিকারকদের যৌক্তিক মুনাফা ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় রেখে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আমদানিকারক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দাম পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় সেই আবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন দাম তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরণের স্টেন্টের দাম এসেছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। এক ধরণের বিশেষ আবরণযুক্ত ‘সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট’-এর দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমেছে দাম।

‘ম্যাগমা র‌্যাপামাইসিন রিং’-এর দাম ৩৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সবচেয়ে সস্তা ধরণের স্টেন্টের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি।

চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য চারটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে স্টেন্টের নতুন মূল্য তালিকা টাঙাতে হবে, যাতে রোগীরা সহজেই দেখতে পারেন। 

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি কোনো দাম নেওয়া যাবে না। তৃতীয়ত, স্টেন্টের দাম কোনোভাবেই ‘চিকিৎসা প্যাকেজ’-এর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না- অর্থাৎ প্যাকেজের আড়ালে গিয়ে রোগীর কাছ থেকে বেশি আদায়ের সুযোগ থাকবে না। চতুর্থত, এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।

অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন, দাম কমানোর ফলে হৃদরোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসাব্যয় অনেকটাই কমবে। আর চিকিৎসা প্যাকেজে স্টেন্টের মূল্য না নেওয়ার নির্দেশনা রোগীদের জন্য আরও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে থাকবে। কোনো হাসপাতাল এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


হৃদরোগীদের জন্য সুখবর, কমলো রিংয়ের দাম

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

হৃদরোগীদের জন্য এসেছে বড় সুখবর। চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘হার্টের রিং’ বা করোনারি স্টেন্টের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। একইসঙ্গে দেশের সব হাসপাতালকে নতুন মূল্য কার্যকর করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠি দেশের হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়। 

এতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, নতুন দাম অনুসরণ করে স্টেন্ট বিক্রি করতে হবে এবং তা কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের আওতায় আনা যাবে না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ট্যাক্স, ভ্যাট, আমদানিকারকদের যৌক্তিক মুনাফা ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় রেখে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আমদানিকারক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দাম পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় সেই আবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন দাম তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরণের স্টেন্টের দাম এসেছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। এক ধরণের বিশেষ আবরণযুক্ত ‘সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট’-এর দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমেছে দাম।

‘ম্যাগমা র‌্যাপামাইসিন রিং’-এর দাম ৩৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সবচেয়ে সস্তা ধরণের স্টেন্টের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি।

চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য চারটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে স্টেন্টের নতুন মূল্য তালিকা টাঙাতে হবে, যাতে রোগীরা সহজেই দেখতে পারেন। 

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি কোনো দাম নেওয়া যাবে না। তৃতীয়ত, স্টেন্টের দাম কোনোভাবেই ‘চিকিৎসা প্যাকেজ’-এর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না- অর্থাৎ প্যাকেজের আড়ালে গিয়ে রোগীর কাছ থেকে বেশি আদায়ের সুযোগ থাকবে না। চতুর্থত, এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।

অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন, দাম কমানোর ফলে হৃদরোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসাব্যয় অনেকটাই কমবে। আর চিকিৎসা প্যাকেজে স্টেন্টের মূল্য না নেওয়ার নির্দেশনা রোগীদের জন্য আরও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে থাকবে। কোনো হাসপাতাল এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত